You are currently viewing দুর্বাসাঃ রাগী ঋষির আসল পরিচয়, শেষ পরিনতি।

দুর্বাসাঃ রাগী ঋষির আসল পরিচয়, শেষ পরিনতি।

ঋষি দুর্বাসা,দুর্বাসা মুনি,দুর্বাসা,দুর্বাসার অভিশাপ,দুর্বাসা কার সন্তান,দুর্বাসার ক্রোধ,ঋষি দুর্বাসার রাগ,দুর্বাসা মুনির কাহিনী,দুর্বাসা মুনির অভিশাপ,ঋষি দুর্বাসার অভিশাপ,কেন এত রাগ ঋষি দুর্বাসার,বিষ্ণুকে অভিশাপ দুর্বাসার,দুর্বাসা মহাদেব,দ্রৌপদী ও দুর্বাসা,পুরাণে দুর্বাসা মুনি,যখন সুদর্শন চক্রের ভয়ে পালালেন ঋষি দুর্বাসা!,রাগী দুর্বাসার আসল পরিচয় কি?,কি শাপ দিলো দুর্বাশা,লক্ষ্মী সরস্বতীকে অভিশাপ দুর্বাসার,দুর্বাসা মুনি রাধারাণীকে কি বর দান করেছিলেন?

সনাতন ধর্মের ইতিহাসে যতো মুনি, ঋষি আছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম এবং আলাদা চরিত্রের ঋষি হিসেবে পরিচিত দুর্বাসা মুনি । আপনি হয়ত জেনে থাকবেন দুর্বাসা শব্দের অর্থ হচ্ছে যার সাথে বাস করা যায় না। কিন্তু কেন তার সাথে বসবাস করা যায় না? এই প্রশ্নের উত্তর আমাদের সকলেরই কমবেশি জানা।  একজন মহৎ, সিদ্ধ এবং অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে একদিকে যেমন তিনি ছিলেন নন্দিত, অন্যদিকে তিনি ছিলেন ভীতি উদ্রেককারী অভিশম্পাত প্রদানকারী ও প্রচন্ড ক্রোধযুক্ত একজন ঋষি। তার ক্রোধাগ্নি থেকে রেহাই পাননি স্বয়ং দেবতারাও। ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কারনে তিনি অত্যান্ত ক্রোধিত হতেন এবং ভয়ংকর অভিশাপ প্রদান করতেন। আর তাঁর সাধনার এমনই তেজ ছিলো যে, তার প্রদত্ব সকল অভিশাপ অক্ষরে অক্ষরে প্রতিফলিত হত। প্রিয় দর্শক, রামায়ন মহাভারত সহ সনাতনের বহু ধর্মগ্রহ্নথে ঋষি দুর্বাসার ক্রোধ ও অভিশাপ সম্পর্কিত বহু আখ্যান ও উপাখ্যান আমরা শুনে থাকি। কিন্তু আমরা কি জানি, আসলে কে ছিলেন ঋষি দুর্বাসা? কেন তিনি কথায় কথায় প্রবলভাবে ক্রোধিত হতেন এবং অভিশাপ দিতেন?  আর তার শেষ পরিনতিই বা কি হয়েছিল? এসকল প্রশ্নের উত্তর নিয়ে থাকছে সনাতন এক্সপ্রেসের আজকের আয়োজন।

দুর্বাসার জন্মঃ

ব্রহ্মাণ্ড পুরাণের ৪৪ সংখ্যক অধ্যায়ের বর্ণনা অনুসারে, একবার ব্রহ্মা এবং শিবের মধ্যে প্রচন্ড মনোমালিন্য হয়। এই সংঘাতের ফলে শিব এতটাই ক্রোধান্বিত হয়ে ওঠেন যে, দেবতারা পর্যন্ত তাঁর ভয়ে পালাতে আরম্ভ করেন। এই সংবাদে দেবাদিদেব মহাদেবের পত্নী দেবী পার্বতী অত্যন্ত ক্ষুণ্ণ হন। এবং তিনি মহাদেবের সাথে বাস করতে অক্ষমতা প্রকাশ করেন। নিজের ক্রোধাগ্নির ফলে সৃষ্টি হওয়া অনর্থের কথা চিন্তা করে মহাদেব তা বর্জন করতে সম্মত হন। এরপর ঋষি অত্রির পত্নী অনুসূয়ার গর্ভে তিনি তার সেই প্রবল ক্রোধাগ্নি স্থাপন করেন। মহাদেবের এই ক্রোধাগ্নির থেকে জন্ম হয় ঋষি দুর্বাসার। যেহেতু মহাদেবের ক্রোধের ফলে তাঁর জন্ম হয়েছিল, সেজন্য ঋষি দুর্বাসা সামান্য কথাতে ক্ষুণ্ণ হয়ে ক্রুদ্ধ হয়ে উঠতেন।এবং এই একই কারনে দুর্বাসাকে শিবের অবতার, শিবাংশ বা রুদ্রাংশ নামেও ডাকা হয়। তবে তিনি তার কঠোর তপস্যার দ্বারাই নিজেকে এমন তেজময় রূপে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। দর্শক, বুঝতেই পারছেন, দুর্বাসার আসল পরিচয় এবং তার ক্রোধের উৎস কি? তবে তার সেই বাঁধন হারা ক্রোধ, অভিশাপ প্রদানকারী মানসিকতা কিন্তু চিরস্থায়ী হয় নি। এই ভিডিওটির শেষে রইল দুর্বাসার সেই চরম পরিনতির কথা।

আরও পড়ুনঃ  অশ্বমুণ্ডধারী হয়গ্রীব অবতার কে? || শ্রীবিষ্ণুর মাথা কা *টা গেল কেন? || পৌরাণিক কাহিনী ||

বর্তমান আজমগড় অঞ্চলে ব্যাপ্ত জনবিশ্বাস অনুসারে, তোন নদী এবং মাজুয়ী নদীর সঙ্গম অঞ্চলে ঋষি দুর্বাসা আশ্রম স্থাপন করেছিলেন। ফুলপুর অঞ্চল থেকে ৬ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত এই আশ্রমে দুর্বাসার শিষ্যগণ শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন বলে জানা যায়। বর্তমান হরিয়ানা রাজ্যের পালওয়াল জেলায় ঋষি দুর্বাসার একটি মন্দির ও আছে। হরিয়ানার তেহসিল-হোডাল অঞ্চলের আলি ব্রাহ্মণ গ্রামে এই মন্দিরটি অবস্থিত। দিল্লী-মথুরা পথের সমীপে অবস্থিত এই অঞ্চলে দুর্বাসাকে শিবের অবতার হিসাবে পূজা-অর্চনা করা হয়।

এবার আসুন ঋষি দুর্বাসার কিছু ভয়ংকর অভিশাপ সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাকঃ

ঔর্ব মুনির কন্যা কন্দলীকে বিবাহ করেন ঋষি দুর্বাসা। এই কন্দলী দেবী ছিলেন অতিশয় কলহপ্রিয় ও মুখরা একজন রমনী। তাই বিবাহ কালে ঔর্ব ঋষি তার কন্যার শত দোষ ক্ষমা করতে অনুরোধ করেন জামাতা দুর্বাসা কে। দুর্বাসাও তার স্ত্রীর শত অপরাধের ক্ষমা করবেন বলে কথা দেন। কিন্তু অতি কলহপ্রিয় এই কন্যা অল্পদিনের মধ্যেই একশত দোষ পূর্ণ করে ফেলেন। ফলে যা হওয়ার তাইই হল, ঋষি দুর্বাসা তাঁকে তার দোষের শাস্তি হিসেবে অভিশাপ দ্বারা ভষ্ম করে দেন। এরপর ঋষি ঔর্ব তার কন্যার শোকে কাতর হয়ে দুর্বাসার দর্প হত হবে বলে অভিশাপ দেন।

কথিত আছে যে পাণ্ডবদের ১২ বছররের বনবাসের সময় পাণ্ডবদের আশ্রম গৃহে দুর্বাসা তার শিষ্যদের নিয়ে হাজির হন। সেসময় পাণ্ডবদের আশ্রমে এতজনের অন্ন প্রদানের ব্যবস্থা ছিল না। এতে মহাঋষি দুর্বাসা ক্রোধিত হন ও অভিশাপ দেওয়ার হুমকি দেন। ঠিক একইসময় পাণ্ডবদের পর্ণকুটিরে শ্রী কৃষ্ণ আবির্ভূত হন। দ্রৌপদী তাকে এই সমস্যার কথা জানালে শ্রীকৃষ্ণ দেখলেন একটি মাটির পাত্রে মাত্র একটি অন্নদানা অবশিষ্ট আছে। শ্রীকৃষ্ণ সেই দানাটা খেয়ে পরিতৃপ্তি প্রকাশ করেন। কৃষ্ণের মায়াবী লীলায় সকল সাধুগণ পরিতৃপ্ত হয়ে ঢেকুর তোলে। এমনকি দুর্বাসা নিজেও তৃপ্ত অনুভব করেন। এর ফলে দুর্বাসা পাণ্ডবদের অভিশাপ প্রদানে সক্ষম হন নি বরং দ্রৌপদীকে অন্নপূর্ণা বলে প্রশংসিত করেছিলেন।

দুর্বাসার আশির্বাদঃ

দুর্বাসা মুনি পাণ্ডব জননী কুন্তীর সেবায় সন্তুষ্ট হয়ে, এমন মহামন্ত্র দান করেছিলেন যে, যার প্রভাবে কুন্তী যে কোনো দেবতার প্রাসাদ তার সন্তান হিসেবে পেতে পারতেন। এই মন্ত্রের প্রভাবে তিনি পর্যায়ক্রমে সূর্য, ধর্ম, পবন ও ইন্দ্রকে আহবান করে, যথাক্রমে কর্ণ, যুধিষ্ঠির, ভীম ও অর্জুনকে জন্ম দেন।

দুর্বাসা মুনির ভ্রমণ কালে অপ্সরা রম্ভা তাঁকে সন্তানক নামক একটি পুষ্পমাল্য উপহার দেন। এরপর তার সঙ্গে পথিমধ্যে সাক্ষাৎ ঘটে দেবরাজ ইন্দ্রের। দেবরাজ ইন্দ্র তার হাতি ঐরাবতে চেপে বের হয়েছিলেন। ঐরাবতের ওপর আসীন উজ্জ্বল এবং প্রভাময় ইন্দ্রকে দেখে দুর্বাসা মুনি বিমোহিত হলেন। তিনি আশির্বাদস্বরূপ রম্ভার দেওয়া মালা দেবরাজ ইন্দ্রকে উপহার হিসেবে দেন। দেবরাজ ইন্দ্র সেই মালা হেলাভরে তাঁর হাতি ঐরাবতের মাথায় স্থাপন করলে, ঐরাবত মালাটি ছিন্ন করে মাটিতে নিক্ষেপ করে। এই কারণে দুর্বাসা ক্ষুব্ধ হয়ে, ইন্দ্রকে শ্রীভ্রষ্টের অভিশাপ দেন। তার এই অভিশাপের দরুন ত্রিপুরাসুরের কাছে পরাজিত হয়ে শ্রীহীন হয়েছিলেন দেবরাজ ইন্দ্র। এরপর শ্রীবিষ্ণুর পরামর্শে সমুদ্র মন্থন করে উত্তোলন করা হয় অমৃতকলস। সেই অমৃত পান করে পুনরায় স্বর্গরাজ্য পুনরুদ্ধার করেন তারা।

আরও পড়ুনঃ  দেবী সরস্বতীর কি সত্যিই বিদ্যা দানের ক্ষমতা আছে? Power of Devi Saraswati to Impart Education ||

আরও পড়ুনঃ পরশুরামঃ মহাকাব্যের এক অমর চরিত্র

বলা হয় একদা ঋষি দুর্বাসা উত্তপ্ত পায়েস খাবার সময়, শ্রীকৃষ্ণকে তাঁর সর্বাঙ্গে পায়েস লেপন করতে বললেন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ দুর্বাসার পায়ের তলা ছাড়া সর্বত্র পায়েস লেপন করেন। এঘটনায় ঋষি দুর্বাসা একইসাথে সন্তুষ্ট ও রুষ্ট হন। শ্রীকৃষ্ণ তাঁর পায়ের তলা ছাড়া সর্বশরীরে পায়েস লেপন করেছিলেন বলে, তিনি আশীর্বাদ করে বলেন যে, কৃষ্ণের পায়ের তলা ছাড়া সর্বশরীর অভেদ্য হবে। উল্লেখ্য, পরবর্তীতে পায়ের তলায় বাণ বিদ্ধ হয়ে শ্রীকৃষ্ণ মানবশরীর ত্যাগ করেছিলেন।

একদা শ্রীকৃষ্ণের পুত্র শাম্বকে গর্ভবতী স্ত্রী সাজিয়ে কিছু যাদব যুবকরা ঋষি দুর্বাসার কাছে গেলেন। তারা ঋষিকে জিজ্ঞাসা করলেন, এই স্ত্রীটি গর্ভবতী তার কি পুত্রসন্তান হবে নাকি হবে না? ঋষি দুর্বাসা এই পরিহাস দেখে অত্যান্ত ক্রুদ্ধ হয়ে বললেন, ” হে মন্দবুদ্ধি বালকগণ! এর গর্ভে মুশল আছে এবং তার দ্বারা তোমাদের এই যদুবংশ ধ্বংস হবে।” এখানে মুশল হচ্ছে মুগুর জাতীয় লোহার পিণ্ড। তখন সেই যাদব যুবকরা শাম্বের স্ত্রী ভুষন সরিয়ে সেখানে সত্যিই একটি মুশল দেখতে পেলেন এবং তা নদীর তীরে নিয়ে চূর্ণ করে ফেলেন। মুশলটি ধ্বংস করা হয়েছিল ঘষে ঘষে এবং এর ধবংসাবশেষ নিক্ষেপ করা হয়েছিল নদীতে।

কিন্তু সেই লৌহ চূর্ণ থেকে লৌহ সাদৃশ্য এক ধরনের নল গাছের সৃষ্টি হল। পরে যাদবেরা সমুদ্র তীরে প্রমোদভোজনে গিয়ে মদ্যপ অবস্থায় নিজেদের মধ্যে কলহ বাঁধাল। তারপর সেই লৌহ মুষলের চূর্ণ থেকে সৃষ্ট সেই গাছ তুলে নিয়ে নিজেদের মধ্যে সংঘাতের সৃষ্টি করে সবাই মারা গেলেন। এবং লৌহ মুশলের যে ধবংসাবশেষটুকু নদীতে নিক্ষেপ করা হয়েছিল তা পুনরায় মাছের পেট থেকে পাওয়া যায়। জরা নামের এক ব্যাধ সেই মুশলের ধবংসাবশেষটুকু দিয়ে তৈরি করেছিলেন শ্রীকৃষ্ণের প্রাণ হরণকারী বান। এভাবেই দুর্বাসার অভিশাপ বাস্তবে রূপ নেয়। তবে এখানে দুর্বাসার সম্পৃক্ততার বিষয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে। কোন কোন ক্ষেত্রে যাদবদের অভিশম্পাত প্রদানকারী মুনি ঋষির নাম উল্লেখ করা হয় নি। আবার মতান্তরে দুর্বাসাই এই অভিশাপ প্রদান করেছিলেন বলে জানা যায়।

একদা শ্রীরামচন্দ্র কালপুরুষ তথা যমরাজের সাথে নির্জনে কথা বলছিলেন। যমরাজের শর্ত ছিল এই কথোপকথনের সময় কেউ সেখানে প্রবেশ করলে, তাঁকে ‘রাম পরিত্যাগ করবেন এবং তাঁর মৃত্যু হবে। রাম ও যমের আলাপ কালে লক্ষ্মণ দ্বার রক্ষা করছিলেন। এমন সময়ে রাজবাড়িতে অশনিসংকেত হয়ে আগমন ঘটল দুর্বাসা মুনির । লক্ষণ করজোড়ে মুনিকে প্রণাম জানালেন। কিন্তু মুনির তখন রামের সঙ্গে সাক্ষাতের অভিলাষ। লক্ষণ রামের আদেশ সম্পর্কে মুনিকে অবহিত করলেও মুনি নিজের বক্তব্যে অনড়। যদি রাম সাক্ষাৎ না করেন মুনি সমগ্র অযোধ্যাকে শাপ দিয়ে ভস্মীভূত করবেন ।  এই পরিস্থিতিতে লক্ষণ নিজের মৃত্যুই শ্রেয় মনে করে মন্ত্রণালয়ের মধ্যে প্রবেশ করলেন । লক্ষণের প্রবেশমাত্র কালপুরুষ চলে যাওয়ার জন্য উদ্যত হলেন । যাওয়ার আগে রামকে বলে গেলেন , আপনি এবার আপনার প্রতিজ্ঞা স্মরণ করুন । এই কক্ষে প্রবেশের শাস্তি মৃত্যু। এদিকে রামের দু চোখে তখন বাঁধভাঙা অশ্রু। ভাই লক্ষণ দাদাকে প্রণাম করে উর্মিলাকে আর লব কুশকে আড়াল থেকে এক ঝলক দেখে সোজা চলে গেলেন রাজ্যের সীমানায় । বসলেন সরযূ নদীর তীরে। তারপর অস্ত্র রাখলেন নদীর ধারে। এরপর ধীরে ধীরে সরযূ নদীর মধ্যে প্রবেশ করলেন । আর এভাবেই স্বেচ্ছায় জলসমাধি গ্রহণ করে পার্থিব শরীর ত্যাগ করলেন রামচন্দ্রের প্রাণের ভ্রাতা লক্ষ্মণ।

আরও পড়ুনঃ  হিন্দু নারীদের মাসিক ধর্ম পালনের সময় ধর্ম-কর্ম, আচার-ব্রত, পূজা-পার্বণ, ধর্মীয় স্থানে প্রবেশ বিধি

এবার আসুন কিভাবে দুর্বাসার দর্প চূর্ণ হয়েছিল তা জেনে নেওয়া যাকঃ

পুরাকালে অম্বরীষ নামে একজন প্রসিদ্ধ রাজা ছিলেন। তিনি ছিলেন ভগবান বিষ্ণুর একনিষ্ঠ ভক্ত। তার কঠোর তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে ভগবান বিষ্ণু তাকে তাঁর সুদর্শন চক্র নিয়ন্ত্রন করার ক্ষমতা প্রদান করেছিলেন। একবার অম্বরীষ এক মহাযজ্ঞের আয়োজন করে সমস্ত মুনি ঋষিদের আমন্ত্রন জানান। সঙ্গত কারনে, মহর্ষি দুর্বাসাও ছিলেন সেই যজ্ঞের আমন্ত্রিত অতিথি। এই মহাযজ্ঞের শুরু থেকে শেষ অব্দি রাজা অম্বরীষ উপবাসী ছিলেন। যজ্ঞের শেষে রাজা অম্বরীষ যখন উপবাস ভঙ্গ করবেন, ঠিক তখনই, ঋষি দুর্বাসা তাকে অপেক্ষা করতে বলে নদীতে স্নান করতে যান। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরেও ঋষি দুর্বাসা স্নান থেকে ফিরলেন না। এদিকে ক্ষুধায় কাতর অম্বরীষ অন্যান্য মুনি ঋষিদের অনুমতি নিয়ে শুধুমাত্র জল পান করেছিলেন। ঠিক সেই সময়, যজ্ঞস্থলে উপস্থিত হন ঋষি দুর্বাসা, তিনি বুঝলেন তাঁর জন্য অপেক্ষা না করেই রাজা অম্বরীষ তাঁর উপবাস ভঙ্গ করেছেন।

স্বভাবতই, ক্রোধের অগ্নি প্রজ্জ্বলিত হল তাঁর হৃদয়ে। তাঁর সেই তেজ থেকে জন্ম নিল এক বিকট দর্শন, রক্তপিপাসু রাক্ষসের। সেই রাক্ষস তেড়ে এল রাজা অম্বরীষের দিকে। উপায়ন্তর না দেখে মহারাজ অম্বরীষ শ্রী হরিকে স্মরন করে তাঁর সুদর্শন চক্রকে আহবান করলেন। এক নিমেষেই সুদর্শন চক্র সেই রাক্ষসকে ছিন্ন ভিন্ন করে ধাবিত হল ঋষি দুর্বাসার দিকে। অবস্থা বেগতিক দেখে ঋষি দুর্বাসা পালায়ন করতে শুরু করলেন, কিন্তু তিনি যেখানেই যান সুদর্শন চক্র তাঁর পিছু পিছু সেখানেই গিয়ে তাকে হত্যা করতে উদ্যত হয়।  কোন উপায়ন্তর না দেখে দুর্বাসা একে একে দেবরাজ ইন্দ্র, প্রজাপতি ব্রহ্মা, দেবাদিদেব মহাদেব ও শ্রীবিষ্ণুর কাছে অনুরোধ করেন। কিন্তু তাদের সবাই সুদর্শন চক্রকে থামাতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেন। তবে নারায়ন তাকে পরামর্শ দেন অম্ববরীষের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে। নারায়নের পরামর্শমত ঋষি দুর্বাসা অম্বরীষের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ভবিষ্যতে তিনি তাঁর ক্রোধ সংবরন করে অভিশাপ দেওয়া থেকে বিরত থাকবেন বলে অঙ্গীকার করেন। এরপর অম্বরীষ সুদর্শন চক্রকে শান্ত করেন এবং এভাবেই ঋষি দুর্বাসা সে যাত্রা প্রাণে বাচলেন। এবং এভাবে ঔর্ব ঋষির অভিশাপে দুর্বাসার গর্ব এবং দর্প খর্ব হয়েছিলো।

ঋষি দুর্বাসার ভিডিওঃ

 

আমাদের সাথে ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউবে যুক্ত হতে নিচের লিংকগুলোতে ক্লিক করুনঃ

 

 

 

 

 

 

 

5/5 - (1 vote)

Leave a Reply