You are currently viewing পুত্রের যৌবন কেড়ে নিয়ে উপভোগ করলেন পিতা, পুত্র হলেন অকাল বৃদ্ধ। যযাতি, দেবযানী,  ও শর্মিষ্ঠার প্রেম।

পুত্রের যৌবন কেড়ে নিয়ে উপভোগ করলেন পিতা, পুত্র হলেন অকাল বৃদ্ধ। যযাতি, দেবযানী, ও শর্মিষ্ঠার প্রেম।

একজন পিতা তাঁর জাগতিক ভোগ-বিলাস, অদম্য কামনা ও লালসার সমুদ্রে অবগাহন করার জন্য ছিনিয়ে নিয়েছিলেন তাঁরই পুত্রের যৌবন। আর পুত্র তাঁর পিতাকে নিজের যৌবন দান করে নিজের দেহে ধারণ করেছিলেন অকাল বার্ধ্যক্য। যাতে তাঁর পিতা কাটাতে পারেন অনন্ত লালসাময় জীবন। মহাভারতের আদিপর্ব, ভাগবত পুরাণ ও মৎস্য পুরাণে উল্লেখিত সেই কাহিনী আজ উপস্থাপিত হল আপনাদের জন্য। তো চলুন দর্শক জেনে নেওয়া যাক অসুরগুরু শুক্রাচার্যের কন্যা দেবযানী, অসুররাজ বৃষপর্বার কন্যা শর্মিষ্ঠা ও চন্দ্রবংশীয় রাজা যযাতির ত্রিমুখী প্রেমের কাহিনী যার ফলে পাল্টে গিয়েছিল রাজা যযাতি ও তাঁর পুত্র পুরুর জীবন। তবে শুরু করার আগে আপনাদের কাছে অনুরোধ, ভিডিওটি ভালো লাগলে কমেন্টে একবার জয় শ্রীকৃষ্ণ লিখে যেতে ভুলবেন না।

আপনারা আগেই জেনেছেন অসুররাজ্যের রাজা বৃষপর্বার কন্যা ছিলেন শর্মিষ্ঠা। অন্যদিকে শর্মিষ্ঠার বাল্যবন্ধু দেবযানীর পিতা ছিলেন অসুরদের গুরু শুক্রাচার্য। বলা হয় এই শুক্রাচার্য ছিলেন দেবতাদের গুরু বৃহষ্পতির থেকেও ক্ষমতাবান। কারন শুক্রাচার্য মৃতসঞ্জীবনী বিদ্যা জানতেন যা দিয়ে তিনি দেবতাদের সাথে যুদ্ধে নিহত অসুর সেনাদের পুনরায় জীবন দান করতে পারতেন। অপরদিকে দেবগুরু বৃহস্পতিও এই বিদ্যা জানতেন না। তাই তিনি তাঁর পুত্র কচকে পাঠিয়েছিলেন শুক্রাচার্যের নিকট থেকে এই গুপ্তবিদ্যা রপ্ত করার জন্য। যাইহোক, মৃতসঞ্জীবনী বিদ্যা ছাড়াও আরও অগণিত অস্ত্রবিদ্যা ও মন্ত্রবিদ্যায় সিদ্ধহস্ত ছিলেন এই শুক্রাচার্য। তাই সঙ্গত কারনেই তিনি ছিলেন অসুররাজের প্রধান পরামর্শদাতা ও দিকনির্দেশক। অসুরগুরু ও অসুররাজের দুই কন্যা তথা দেবযানী ও শর্মিষ্ঠার মধ্যেও ছোটবেলা থেকে ছিল গভীর হৃদ্যতা।

একদিন এই দুই নবযৌবনপ্রাপ্তা তরুনী স্নান করতে গিয়েছিলেন অরণ্য-মধ্যস্থ একটি সরোবরে। তাদের সাথে ছিল আরও কিছু সহচরীবৃন্দ ও দাসীগণ। সরোবরের পাশে তাদের পোশাক রেখে স্নানে নামলেন তরুনীদল। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তাঁরা শীতল জলে স্নান ও জলকেলী করলেন। কিন্তু তাদের এই আনন্দের মাঝে হঠাৎ দমকা বাতাস এসে তাদের সব পোশাক উড়িয়ে নিয়ে চলে গেল। কুমারীগণ তড়িঘড়ি করে সরোবর থেকে উঠে এসে তাদের বস্ত্রের সন্ধান করতে গিয়ে দেখতে পেলেন তাদের সকলের বস্ত্র একসাথে দলা পাকিয়ে অরণ্যের একপাশে পড়ে আছে।

এসময় তাড়াহুড়ো করে সবাই সেই বস্ত্রের দলা থেকে কাপড় নিয়ে তাদের অঙ্গ আচ্ছাদন করতে লাগলেন। কিন্তু অসুররাজের কন্যা দেবযানী ভুল করে তারই সখী রাজকুমারী শর্মিষ্ঠার বস্ত্র পরিধান করে ফেললেন। দেবযানী ও শর্মিষ্ঠার মধ্যে গভীর সখ্যতা ছিল বটে, তবে নিজের পরিধেয় রেশম বস্ত্র সামান্য ঋষিকন্যার অঙ্গে আচ্ছাদিত অবস্থায় দেখে অত্যন্ত কুপিত হলেন রাজদুহিতা শর্মিষ্ঠা। তিনি দেবযানীকে তীব্র বাক্যবাণে বিদ্ধ করে তুমুলভাবে তিরষ্কার করলেন এবং তাকে সামান্য ঋষিকন্যা ও তাঁর পিতা শুক্রাচার্যকে রাজার সামান্য আজ্ঞাবহ ব্যাক্তি হিসেবে উল্লেখ করতেও কুণ্ঠিত হলেন না। সামান্য পোশাক পরিধানকে কেন্দ্র করে সখী শর্মিষ্ঠা তাকে এত কটু ভাষায় আক্রমন করতে পারেন তা স্বপ্নেও ভাবেননি দেবযানী। তাই সখীর এই আচরনে রাগে দুখে খোভে অপমানে কাদতে থাকেন দেবযানী। তবে শর্মিষ্ঠা তাকে বাক্যবাণে বিদ্ধ করেই শান্ত হলেন না, রাজকন্যার পোশাক পরিধান করার শাস্তি হিসেবে দেবযানীর শরীর থেকে নিজের বস্ত্র কেড়ে নিলেন এবং তাকে ঠেলে ফেলে দিলেন পার্শ্ববর্তী একটি কুয়োয়। এরপর দেবযানীকে মেরে ফেলতে পেরেছেন ভেবে প্রাসাদে ফিরে ফিরে গেলেন শর্মিষ্ঠা।

আরও পড়ুনঃ  তারকেশ্বর মন্দিরের এই তথ্যগুলো জানেন তো?

এদিকে দেবযানী যে কুয়োয় পড়ে গিয়েছিলেন তাঁর কাছে এসে দাড়ালেন অত্যন্ত সুপুরুষ ও চন্দ্র বংশীয় রাজা যযাতি। মহাভারতের কুরু-পাণ্ডবদের পূর্বপুরুষ ছিলেন এই রাজা যযাতি। শিকারের মাঝপথে তিনি দল থেকে বিচ্যুত হয়ে এবং তৃষ্ণায় কাতর হয়ে কুয়োর কাছে গিয়েছিলেন জল পান করতে। কিন্তু কুয়োয় জলের মধ্যে অসামান্যা রূপসী দেবযানীকে দেখে বিষ্মিত হলেন যযাতি। নিমেষেই বিষ্ময়ের ঘোর কাটিয়ে সেখান থেকে উদ্ধার করলেন দেবযানীকে। এরপর তাঁর মুখে সমস্ত বৃত্তান্ত শুনে তাকে পৌছে দিলেন অসুরগুরু শুক্রাচার্যের তপোবনে। ইতিমধ্যে সুদর্শন সুপুরুষ যযাতিকে দেখে প্রণয়াসক্ত হয়ে পড়লেন দেবযানী। তিনি রাজাকে প্রণয় নিবেদন করে তাঁর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। শুনে রাজা যযাতি বললেন, সেটা সম্ভব নয়। কারন ব্রাহ্মণ কন্যার সাথে ক্ষত্রিয় রাজার বিবাহ হতে পারে না। আপনার পিতাই এই বিবাহে সম্মত হবেন না। তবে তিনি যদি স্বেচ্ছায় আপনাকে আমার হাতে আপনাকে দান করেন তাহলে আমার কোন আপত্তি থাকবে না। এই বলে শুক্রচার্যের তপোবনে দেবযানীকে রেখে নিজ প্রাসাদে প্রস্থান করলেন রাজা যযাতি।

গৃহে ফিরে পিতা শুক্রাচার্যের কাছে সখী শর্মিষ্ঠার কৃতকর্মের বিবরণ দিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন দেবযানী। শুনে শুক্রাচার্য বললেন, “সাধুজনের ক্ষমাই শ্রেষ্ঠ গুণ। ক্ষমার দ্বারা ক্রোধকে যে নিরস্ত করতে পারে সে সর্ব জগৎ জয় করে। তাই আমাদের উচিত হবে রাজদুহিতা শর্মিষ্ঠাকে ক্ষমা করে দেওয়া।” উত্তরে দেবযানী কাদতে কাদতে বললেন, “পন্ডিতগণ বলেন, নীচ লোকের কাছে অপমানিত হওয়ার চেয়ে মরণ ভাল। অস্ত্রাঘাতে যে ক্ষত হয় তা সারে কিন্তু সে ক্ষত সারে না”। দেবযানীর যুক্তিতে পরাস্ত হলেন শুক্রাচার্য তারপর শর্মিষ্ঠার বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে হাজির হলেন রাজা বৃষপর্বার দরবারে। রাজার কাছে শর্মিষ্ঠার কৃতকর্মের নিন্দা জানিয়ে তিনি এই রাজ্য ত্যাগ করে অন্য রাজ্যে চলে যেতে চাইলেন। সব শুনে রাজা বৃষপর্বা অত্যন্ত মনোক্ষুণ্ণ হলেন। তিনি নানাভাবে অনুনয় করে ও ক্ষমা প্রার্থনা করে শুক্রাচার্যকে তাঁর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আবেদন করলেন। কিন্তু শুক্রাচার্য বললেন, “এ রাজ্য ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত আমার নয়, আমার কন্যা দেবযানীর। যে রাজ্যের রাজকুমারী একজন ব্রাহ্মণ ও তাঁর কন্যাকে তুচ্ছ কারনে অপমান ও তিরষ্কার করতে পারেন এবং বধ করতেও পিছপা হন না সেখানে সে আর থাকতে চায় না।” শুক্রাচার্যের মুখে একথা শুনে অশ্রুসিক্ত নয়নে রাজা বৃষপর্বা এবার হাজির হলেন দেবযানীর সামনে, তাকেও অনুরোধ করলেন রাজ্য ত্যাগ করার সিদ্ধন্ত রদ করতে। কিন্তু দেবযানী রাজা বৃষপর্বাকে শর্ত দিলেন যে, যদি রাজকুমারী শর্মিষ্ঠা যদি সকল ঐশ্বর্য-আরাম-আয়েশ ত্যাগ করে সারাজীবন তাঁর দাসী হয়ে জীবন কাটাতে পারেন তবেই তাঁরা এ রাজ্য ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবেন অন্যথায় নয়।

আরও পড়ুনঃ  রাস লীলা কি? কি ঘটেছিল রাস পূর্ণিমার রাতে?

এদিকে রাজকুমারী শর্মিষ্ঠা তখন এক প্রকার নিরুপায়। তিনি নিজেও কিছুটা অনুতপ্ত বটে, তবে অসুরগুরু শুক্রাচার্যের রোষ থেকে বাচতে এবং পিতার সম্মান রক্ষা হেতু বাধ্য হয়েই দাসীর বেশ ধারণ করলেন তিনি। এরপর মলিন বস্ত্রাদি পরিধান করে হাজির হলেন শুক্রাচার্যের তপোবনে। যে শর্মিষ্ঠা একদিন দেবযানীর পরম প্রিয় সখী ছিলেন সেই রাজকন্যাকে দাসীর বেশে দর্শন করে কিছুটা হলেও অপমানের জ্বালা শান্ত হল দেবযানীর।

এর কিছুকাল পর শুক্রাচার্যের তপোবনে এসে আবারও হাজির হলেন চন্দ্রবংশীয় রাজা যযাতি। এসময় দেবযানী তাকে তাঁর পিতার কাছে নিয়ে গিয়ে বললেন, “এই সেই ক্ষত্রিয় রাজা যিনি কুয়ো থেকে আমাকে উদ্ধার করেছিলেন। হে পিতা, এই উপকারের ঋণ শোধ করার জন্য আমি এর রানীরূপে সারাজীবন একে সেবা করতে চাই।”

শুক্রাচার্য বললেন, “প্রণয় ধর্মের অপেক্ষা রাখে না। আমার কন্যাকে ক্ষত্রিয় রাজার হাতে তুলে দিতে আমার কোন আপত্তি নেই।” তবে শুক্রাচার্য এও জানতেন যে বিবাহের পর দেবযানীর সাথে তাঁর দাসী শর্মিষ্ঠাও রাজ প্রাসাদে যাবেন। এবং রূপে গুণে শর্মিষ্ঠা দেবযানীর চেয়ে অধিকতর শ্রেয়। তাই তিনি রাজাকে শর্ত দিলেন, দেবযানীকে বিবাহের পর রাজা যযাতি আর কোন দার পরিগ্রহ করতে পারবেন না অর্থাৎ, অন্য কোন নারীকে বিবাহ করা বা অন্য নারীগমন করতে পারবেন না। শুক্রাচার্যের শর্ত মেনে নিলেন রাজা যযাতি। এরপর শুভ দিনে শুভ কার্য সেরে দাসী ও রানীকে নিয়ে রাজা ফিরে গেলেন রাজধানীতে। সেখানে প্রাসাদে রানীর বেশে রইলেন দেবযানী এবং শর্মিষ্ঠার জন্য অশোক বনে নির্মান করা হল আলাদা প্রাসাদ।

কিন্তু বিবাহের আগে শুক্রাচার্যকে দেওয়া কথা রাখা মুশকিল হয়ে পড়ল রাজা যযাতির পক্ষে। অশোকবনের অনিন্দ্যসুন্দরীর মোহ গ্রাস করতে থাকল তাকে। অন্যদিকে শর্মিষ্ঠাও সুদর্শন সুপুরুষ রাজা যযাতিকে পতিরূপে প্রাপ্ত করার জন্য উন্মুখ হয়ে পড়লেন। ফলে রাজা যযাতির গমনাগমন বেড়ে গেল অশোক বনে। দু নৌকায় পা দিয়ে চলতে লাগলেন রাজা যযাতি। এরপর একে একে রাজা যযাতির ঔরসে দেবযানীর গর্ভে যদু ও তুর্বসু নামক দুই পুত্র ও শর্মিষ্ঠার গর্ভে দ্রুহ্যু, অনু ও পুরু নামক তিন পুত্রের জন্ম হল। কিন্তু সত্য চিরদিন চাপা থাকে না, রাজা যযাতির এই গোপন অভিসারও এক পর্যায়ে প্রকাশিত হল দেবযানীর কাছে।

ফলশ্রুতিতে অত্যন্ত কুপিত হলেন দেবযানী এবং তৎক্ষণাৎ তাঁর পিতা শুক্রাচার্যের কানেও পৌছে গেল রাজা যযাতি ও শর্মিষ্ঠার কথা। সব শুনে ক্রোধের আগুনে জ্বলে উঠলেন শুক্রাচার্য। তাঁর দেওয়া শর্ত ভঙ্গ করার জন্য তিনি যযাতিকে অভিশাপ দিলেন তাঁর শরীরে বাসা বাধবে অকাল বার্ধক্য। চিরতরে জ্যোতিচিহ্ন পড়বে তাঁর কামনা বাসনা নিবৃত্তিতে। অর্থাৎ খুব শীঘ্রই বৃদ্ধ হয়ে যাবেন তিনি। তাঁর দেহে কামনা থাকবে কিন্তু তা নিবৃত্ত করার ক্ষমতা থাকবে না তাঁর। ব্রাহ্মণের অভিশাপ বিফল হওয়ার নয়। অচিরেই তা ফলে গেল যযাতির জীবনে। ফলে খুব দ্রুত বার্ধক্যে পৌছে গেলেন যযাতি। কিন্তু তিনি তাঁর কামনা বাসনা তখনও ত্যাগ করতে পারেন নি। তাই তিনি আবারও শুক্রাচার্যের তপোবনে উপস্থিত হয়ে লুটিয়ে পড়লেন তাঁর চরণে। অনেক অনুনয় বিনয় করে এই অভিশাপ ফিরিয়ে নিতে অনুরোধ করলেন শুক্রাচার্যকে। রাজার এই অনুনয় দেখে কিছুটা প্রশমিত হল শুক্রাচার্যের ক্রোধ। তিনি রাজাকে বললেন তোমার কোন পুত্র যদি তাঁর এই বার্ধ্যক্য নিজের শরীরে ধারণ করতে চায়, তাহলে তুমিও তোমার পুত্রের যৌবন নিজের মধ্যে ধারণ করতে পারবেন।

আরও পড়ুনঃ  মহর্ষি দধিচীর প্রকৃত পরিচয় ও আত্মত্যাগের কাহিনী || বজ্রসম কঠিন অস্থি যার || Mahrshi Dadhichi Story||

শুক্রাচার্যের কথায় কিছুটা আশার আলো দেখতে পেয়ে রাজপ্রাসাদে ফিরে এলেন যযাতি। এরপর তাঁর পাঁচ পুত্রকে ডেকে বললেন, “আমি শুক্রের অভিশাপে জরাগ্রস্ত হয়েছি। কিন্তু যৌবনভোগে এখনও তৃপ্ত হইনি। আমার জরা নিয়ে তোমাদের কেউ একজন তাঁর যৌবন আমাকে দাও, হাজার বছর পরে আবার তোমাকে যৌবন ফিরিয়ে দিয়ে নিজের জরা ফিরিয়ে নেব।” কিন্তু প্রথম চার পুত্র যদু, তুর্বসু ,দ্রুহ্যু এবং অনু কেউই নিজের যৌবন দান করে বার্ধক্য ধারণ করতে রাজি হলেন না। ফলে রজা যযাতি অসন্তুষ্ট হয়ে যদু ও তাঁর সন্তানদের রাজ্যের উত্তরাধিকারী থেকে বঞ্চিত করলেন, তুর্বসুকে আভিশাপ দিলেন সে অন্ত্যজ ও ম্লেচ্ছ জাতির রাজা হবে এবং তাঁর বংশলোপ হবে, দ্রুহ্যুকে অভিশাপ দিলেন অতি দুর্গম দেশে গিয়ে ভোজ উপাধি নিয়ে বাস করবে এবং কখনও অভীষ্ট লাভ করবে না, অনুকে অভিশাপ দিলেন সে শীঘ্রই জরান্বিত হবে ও তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া হবে না এবং তার সন্তানেরা যৌবনলাভ করেই মারা যাবে।

সবশেষে কনিষ্ঠ পুরু রাজি হলেন তাঁর পিতার প্রস্তাবে। এতে রাজা যযাতি খুশী হয়ে আশীর্বাদ করলেন পুরুর রাজ্যে সকল প্রজা সর্ব বিষয়ে সমৃদ্ধি লাভ করবে। অতঃপর যযাতি আবারও ফিরে পেলেন হারানো যৌবন। আর অকাল বার্ধক্য বাসা বাঁধল তাঁর পুত্র পুরুর শরীরে। যৌবন ফিরে পেয়ে যযাতি ডুব দিলেন কামনা বাসনার স্রোতে, প্রাণভরে উপভোগ করলেন তাঁর নব যৌবন।

এভাবেই কেটে গেল হাজার বছর। একটা সময়ে এসে কিছুটা অনুশোচনা এসে মনের কোন বাসা বাঁধল রাজা যযাতির মনে কোনে। তিনি তাঁর পুত্র পুরুকে ডেকে বললেন, “হে পুত্র। তোমার যৌবন আমাতে ধারণ করাটা ছিল আমার জীবনের গুরুতর ভূল। আজ আমি উপলব্ধি করেছি কাম্য বস্তুর উপভোগে কখনও কামনার শান্তি হয় না, ঘৃতসংযোগে অগ্নির ন্যায় আরও বৃদ্ধি পায়। পৃথিবীতে যত ধান্য, যব, হিরণ্য, পশু ও স্ত্রী আছে তা একজনের পক্ষেও পর্যাপ্ত নয়, অতএব বিষয়তৃষ্ণা ত্যাগ করা উচিত।” অতঃপর রাজা যযাতি পুরুকে ফিরিয়ে দিলেন তাঁর যৌবন। এরপর বার্ধক্যকে সাথে নিয়ে কিছুকাল বনবাস করে ইহলোক ত্যাগ করলেন তিনি।

5/5 - (1 vote)

Leave a Reply