You are currently viewing দেবব্রত ভীষ্মঃ অস্টবসুর এক অভিশপ্ত বসুদেবতা || Devavrata Bhishma -The Cursed Vasu of the Asta Vasus

দেবব্রত ভীষ্মঃ অস্টবসুর এক অভিশপ্ত বসুদেবতা || Devavrata Bhishma -The Cursed Vasu of the Asta Vasus

দেবব্রত ভীষ্মঃ অস্টবসুর এক অভিশপ্ত বসুদেবতা || Devavrata Bhishma The Cursed Vasu of the Asta Vasus: ছেলেবেলায় ১ এ চন্দ্র, ২ এ পক্ষ, ৩ এ নেত্র, ৪ এ বেদ, ৫ এ পঞ্চবাণ, ৬ এ ঋতু, ৭ এ সমুদ্র, ৮ এ অষ্টবসু, ৯ এ নবগ্রহ এবং ১০ এ দিক, এগুলো আমরা সবাই পড়েছি।বস্তুত প্রত্যেক বাঙালী ঘরের সন্তানের এগুলোই হল প্রথম বেলার শিক্ষা। কিন্তু ছেলেবেলায় আমরা গননা শিক্ষার আড়ালে যে সব শব্দগুলো শিখেছিলাম, তার প্রত্যেকটির অর্থ বা বিশ্লেষণ কি আমরা আজও জানি? এর উত্তর হয়ত হ্যাঁ, হয়ত না। অন্য সবগুলো আমরা মোটামুটিভাবে জানলেও ৮ এ অষ্টবসু কি তা আমরা অনেকেই জানি না। আপনি জেনে আশ্চর্য হবেন যে, এই অস্টবসু শব্দটির বিরাট প্রভাব রয়েছে মহাভারতে, তাছাড়া এদের সাথে জড়িয়ে আছেন, পিতামহ ভীষ্ম, কামধেনু, ঋষি বশিষ্ঠ, দেবী গঙ্গা এবং রাজা শান্তনু। তবে আমাদের আজকের আলোচনার মূল বিষয় এই অষ্টবসুদের মধ্যকার একজন শাপগ্রস্থ বসুদেবতা যিনি পৃথিবীতে দেবব্রত ভীষ্ম নামে পরিচিত লাভ করেন এবং কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের অন্যতম মহানায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন । আসুন দর্শক, এই আলোচনা শ্রবনের মাধ্যমে আমরাও আমাদের জ্ঞানচক্ষু উন্মীলন করি এবং সনাতনের অন্তর্নিহিত অমৃতরস আস্বাদন করি।

হিন্দু পুরাণে সর্বমোট ৩৩ প্রকার দেবতার অস্তিত্ব বিদ্যমান। এরা হলেন বারো প্রকার আদিত্য, এগারো প্রকার রুদ্র, আট প্রকার বসু বা অষ্টবসু এবং দুই প্রকার অশ্বিনীকুমারদ্বয়। তবে অশ্বিনীকুমারদ্বয়ের নাম সব শাস্ত্রে বিদ্যমান নয়। শাস্ত্র ভেদে এই দু’জনকে পৃথক পৃথক দেবতাদের দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু বাদবাকিরা নির্বিবাদে সব শাস্ত্রেই বিদ্যমান আছেন।

মহাভারতের গুরুত্বপূর্ণ ভীষ্ম চরিত্রটি আলোচনা করতে গেলে এদের মাঝে অষ্টবসুদের কথা জানা প্রয়োজন। এই আটজন বসুদেবতা উপদেবতা বা প্রতিনিধিত্বকারী দেবতা হিসেবে বিবেচিত হন। কোথাও কোথাও তাদেরকে ইন্দ্রের প্রতিনিধি বলা হলেও অনেক ক্ষেত্রে এদেরকে বিষ্ণুর প্রতিনিধিও বলা হয়েছে। তাদের জন্মের ইতিহাস সম্পর্কে দুই প্রধান ভারতীয় পুরাণ রামায়ণ ও মহাভারতেও রয়েছে বিস্তর ভিন্নতা। রামায়ণে এদেরকে ঋষি কশ্যপ ও অদিতির পুত্র বলা হলেও, মহাভারত মতে এরা প্রজাপতি মনুর সন্তান। যেখানে রামায়ন কাহিনীতে এরা সরাসরি দেবতাদের ভাই হন, সেখানে মহাভারতে এরা হলেন মানুষের ক্রোড়ে জন্মের দরুন উপদেবতা। এই অষ্টবসুদের নামের ক্ষেত্রেও মহাভারতের সাথে রামায়ণের অমিল রয়েছে। মহাভারতে উল্লেখিত অস্টবসুর নামগুলো হচ্ছে,

 

  • ১।। অনল  তথা অগ্নির প্রতিনিধিত্বকারী
  • ২।। অনিল তথা বায়ুর প্রতিনিধিত্বকারী
  • ৩।। সোম তথা চন্দ্রের প্রতিনিধিত্বকারী
  • ৪।। অহস তথা অন্তরীক্ষের প্রতিনিধিত্বকারী
  • ৫।। ধর বা পৃথু অর্থাৎ পৃথিবীর প্রতিনিধিত্বকারী
  • ৬।। ধ্রুব তথা নক্ষত্রসমূহের প্রতিনিধিত্বকারী
  • ৭।। প্রত্যুষ তথা ঊষালগ্নের প্রতিনিধিত্বকারী  এবং
  • ৮।। প্রভাষ বা দ্যু  যিনি দ্যুলোকের বা আকাশের প্রতিনিধিত্বকারী।

শাস্ত্রমতে এই অষ্টবসুকে আবার আটটি দিকের তথা (পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর, দক্ষিন, ঈশান, বায়ু,অগ্নি ও নৈরিত দিকের দেবত্ব আরোপ করা হয়েছে। অষ্টবসুদের মধ্যে নেতাস্থানীয় ছিলেন শেষোক্ত বসু প্রভাষ, যাকে আবার দ্যু বসু নামেও ডাকা হতো।

 

একসময় অষ্টবসুরা তাদের স্ত্রীদের নিয়ে ঋষি বশিষ্ঠের আশ্রমে ভ্রমণ করতে গিয়েছিলেন। অষ্টবসুরা ঋষি বশিষ্ঠের আশ্রমে নন্দিনী নামক একটি কামধেনু দেখতে পেয়েছিলেন যা এক কথায় কল্পতরুর সমান । আসলে কামধেনু হচ্ছে আশ্চর্য ক্ষমতাসম্পন্ন এক গাভী যা সকলের মনোবাসনা পুর্ণ করতে পারত। ঋষি বশিষ্ঠ এই কামধেনুর সাহায্যে অষ্টবসুদের আপ্যায়ন এবং সমাদর করেছিলেন। কামধেনুর এই আশ্চর্য গুন দেখে দুষ্টবুদ্ধির উদয় হল প্রভাষ পত্নীর মাথায়। তিনি প্রভাষকে নন্দিনি কামধেনুকে চুরি করার জন্য ব্যাপকভাবে প্ররোচিত করলেন। স্ত্রীর প্ররোচনায় পড়ে সেদিন রাত্রিবেলায় প্রভাষ তার ভ্রাতাদের সাহায্যে, গাভীটি চুরি করে নিয়ে পালিয়ে যেতে লাগলেন। কিন্তু বিধি বাম, কামধেনু চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি তার ভ্রাতা ও ভাতৃবধুদের সহ  হাতেনাতে ধরা পড়ে যান ঋষি বশিষ্ঠের কাছে । ক্রুদ্ধ বশিষ্ঠ তখন তাদের অভিশাপ দিলেন, তাদের প্রত্যেককেই মর্ত্যলোকে জন্মগ্রহণ করতে হবে। যদিও পরে অষ্টবসুদের অনুরোধে ঋষি বশিষ্ঠ প্রভাষ ব্যতীত সকলের শাস্তি কমিয়ে দেন। তিনি তাদেরকে আশ্বস্ত করলেন যে, প্রভাষ ব্যতীত সকলেই জন্মের কয়েক মুহুর্ত পরই স্বর্গে ফিরে যেতে পারবেন। তবে প্রভাষকে চৌর্য কর্মের মূল হোতা হিসেবে মর্ত্যে দীর্ঘ জীবন থাকতে হবে। অগত্যা আট বসুরা তখন উদ্ধারের জন্য দেবী গঙ্গার তপস্যায় মগ্ন হলেন।

এর মধ্যে বলে রাখা ভালো, একদা রাজর্ষি মহাভিষ নামে এক রাজা স্বর্গলাভ করেছিলেন। একবার স্বর্গ সভায় তিনি সহ বহু দেব-দেবীদের মাঝে দেবী গঙ্গাও উপস্থিত ছিলেন। এসময় রাজর্ষি মহাভিষ ও দেবী গঙ্গা পরষ্পরের প্রতি কিছুটা প্রণয়াসক্তি বোধ করেন। তবে এই বিষয়টা ভালো লাগেনি প্রজাপতি ব্রহ্মার । তাই তিনি মহাভিষকে স্বর্গচ্যুতির অভিশাপ দিলেন। এতে রাজর্ষি মহাভিষ কাতরভাবে ব্রহ্মার কাছে অনুনয় করলেন তার শাপ প্রশমিত করার জন্য। ফলশ্রুতিতে ব্রহ্মদেব তার শাস্তি কমিয়ে তাকে মর্ত্যলোকে কিছুকাল বাস করে পরে পুনরায় স্বর্গে প্রবেশের অধিকার দিলেন। রাজা মহাভিষ তখন কুরুবংশীয় রাজা “প্রতীপ”-এর পুত্র হিসেবে জন্মগ্রহণ করার জন্য সংকল্প করলেন । রাজা প্রতীপের এই পুত্রই ছিলেন, হস্তিনাপুরের রাজা শান্তনু।

আরও পড়ুনঃ  ভস্মাসুরঃ যার ভয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন স্বয়ং দেবাদিদেব মহাদেব || Bhasmasura, Shiva and Mohini Avatar

 

এদিকে দেবী গঙ্গা তপস্যারত বসুদের কাছে গেলে তারা তাকে গঙ্গা এবং প্রতীপ পুত্র শান্তনুর সন্তান হিসেবে প্রসব করে জলে বিসর্জিত করার জন্য অনুরোধ করেন। জবাবে গঙ্গা তাদের বলেন, তাই হবে, কিন্তু তাদের অন্তত একটি পুত্রকে জীবিত থাকতে হবে কারন তা না হলে রাজা শান্তনু ও দেবী গঙ্গার প্রণয় ও বিবাহ নিষ্ফল হবে। এই মর্মে অষ্টবসুদের প্রার্থনায় সম্মতি দিয়ে মহাভিষের কথা ভাবতে ভাবতে মর্ত্যে গমন করেন দেবী গঙ্গা । পরে রাজা প্রতীপের পুত্র হিসেবে রাজর্ষি মহাভিষ পরিচয়ে জন্ম নেন হস্তিনাপুরের যুবরাজ হিসেবে। যৌবন লাভ করার পর প্রতীপ তাকে সিংহাসনে অভিষেক করিয়ে বললেন, “তুমি গঙ্গা তীরে যেয়ো। সেখানে এক রূপবতী কন্যা পাবে। তাকে তুমি বিবাহ করো, তবে তার পরিচয় জানতে চেয়ো না এবং তার কার্যে বাধা দিও না”। এই বলে তিনি তপস্যা করতে সপত্নীক বনে চলে যান।

শান্তনু পিতার কথামতো গঙ্গাতীরে যান। সেখানে রূপসী দেবী গঙ্গাকে সাধারণ মানবী মনে করে তাকে প্রণয় নিবেদন করলে গঙ্গা শর্ত সাপেক্ষে রাজি হলেন। শর্ত ছিল যদি রাজা তার পরিচয় জানতে না চান এবং তার কার্যে বাধা না দেন, তবে তিনি তাকে বিবাহ করবেন। তবে বিবাহের পরও যে কোন সময় দেবী গঙ্গার কার্যে বাধা দিলে তিনি রাজা শান্তনুকে ত্যাগ করবেন। দেবী গঙ্গার এই শর্ত কিছুটা উদ্ভট মনে হলেও পিতার উপদেশ স্মরণ করে বিবাহে রাজি হয়ে যান শান্তনু। কালক্রমে তাদের ঔরসে একে একে আটটি সন্তান জন্ম নিল। কিন্তু এদের সাতজনকেই গঙ্গাদেবী জন্মের পর পরই জলে নিক্ষেপ করেন। শান্তনু মনে মনে ক্রুদ্ধ হলেও গঙ্গাকে হারানোর ভয়ে নীরব থাকলেন। কিন্তু অষ্টম পুত্রের ক্ষেত্রে আর না পেরে বাদ সাধলেন। অর্থাৎ, ৮ম পুত্রকে জলে বিসর্জন দিতে আপত্তি জানালেন রাজা শান্তনু। তখন গঙ্গা বললেন, “ঠিক আছে রাজা, আমি একে জলে নিক্ষেপ করবো না। তবে শর্ত অনুযায়ী এভাবে আমার কাজে সাথে বাধা দেওয়ার কারনে আপনার সাথে  আমার সম্পর্কও শেষ হলো”। এরপর দেবী গঙ্গা তার স্বরূপে অবতীর্ণ হয়ে রাজা শান্তনুকে অষ্টবসুর কাহিনী বললেন এবং সদ্যজাত শিশুটিকে নিয়ে অন্তর্হিত হলেন।

মহারাজ শান্তনু ও গঙ্গার এই অষ্টম  পুত্র ‘দেবব্রত’ নামে পরিচিতি লাভ করেন। তিনি ঋষি বশিষ্ঠের কাছে শাস্ত্র শিক্ষা এবং পরশুরামের কাছে অস্ত্র শিক্ষা অধ্যয়ন করলেন। এরপর যুবক বয়সে উত্তীর্ণ হলে দেবী গঙ্গা তাকে তার পিতা শান্তনুর নিকট ফিরিয়ে দেন। এরপর রাজা তাকে হস্তিনাপুর রাজ্যের যুবরাজ পদে অভিষিক্ত করেন। কিছুকাল পরে রাজা শান্তনু ‘সত্যবতী’ নামের এক ধীবররাজার কন্যার প্রনয়াসক্ত হয়ে পড়েন এবং তাকে বিবাহ করার প্রস্তাব দেন । কিন্তু ধীবরকন্যা শর্ত দিলেন, তাকে বিয়ে করতে হলে শুধুমাত্র তাকে রানীর মর্যাদা দিতে হবে এবং শুধুমাত্র তার পুত্রদেরকেই রাজ্যের উত্তরাধিকার প্রদান করতে হবে।  এহেন শর্তে মুষড়ে পড়লেন রাজা শান্তনু এবং এক পর্যায়ে দেবব্রত জানতে পারলেন এরূপ শর্তের কথা। এরপর তিনি নিজেই প্রতিজ্ঞা করলেন যে, তিনি রাজ্যভোগ করবেন না, বিবাহ করবেন না এবং নিঃসন্তান থাকবেন। এছাড়াও নিঃস্বার্থ এবং নিরাসক্ত হয়ে আমৃত্যু কুরুরাজ্যের সেবা করবেন। তার এরূপ দৃঢ় সংকল্পের কারণে তার পিতা শান্তনু আশ্চর্য হলেও খুশি হলেন মনে মনে। পুত্রের এই দৃঢ় সংকল্পের কারনে তিনি তার নতুন নামকরণ করেন এবং তাকে ইচ্ছামৃত্যুর বর দিলেন। সেই থেকেই দেবব্রত হয়ে উঠলেন ভীষ্ম। মূলত তিনি যে ভীষন প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, সেই কারনেই তার এরূপ নামকরন।এই ভীষ্মই আমৃত্যু কুরুবংশের অভিভাবক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।

 

শান্তনু ও সত্যবতী দম্পতির দুই পুত্র চিত্রাঙ্গদ এবং বিচিত্রবীর্যের যৌবন লাভের পূর্বেই মৃত্যু হয় মহারাজ শান্তনুর । চিত্রাঙ্গদ যুবক বয়সে এক গন্ধর্বের সাথে যুদ্ধে নিহত হলে অপ্রাপ্তবয়স্ক বিচিত্রবীর্যকে বসানো হয় ক্ষমতায় । বিচিত্রবীর্য বিবাহযোগ্য হলে তার বিয়ের পাত্রীর জন্যে ভীষ্ম কাশীরাজের কন্যাদের স্বয়ংবর সভায় যান। স্বয়ংবর সভায় ভীষ্ম তার ভ্রাতা  বিচিত্রবীর্যের জন্য কাশীরাজের তিন কন্যাকে চাইলে উপস্থিত অন্য রাজা এবং সভাসদরা তাকে উপহাস করতে লাগলেন। এমতাবস্থায় ক্রোধান্বিত ভীষ্ম তাদের সামনে কাশীরাজের তিন কন্যা অম্বা, অম্বিকা এবং অম্বালিকাকে বলপূর্বক অপহরণ করেন। এই সময়ে অম্বার পাণিপ্রার্থী শাল্বরাজ বাধা দিতে গেলে ভীষ্ম তাকে প্রতিহত করেন । মতান্ত্বরে এসময় ভীষ্ম শাল্বরাজকে নিহত করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে অম্বা তার পাণীপ্রার্থী শাল্বরাজের প্রতি তার সমর্পণের কথা ভীষ্মকে জানালে ভীষ্ম তাকে সসম্মানে যেতে দেন।

 

অনেকে মনে করেন, এই সময়ে ভীষ্ম ও অম্বা পরস্পরকে ভালোবেসে ফেলেছিলেন। ভীষ্ম আর অম্বার এই কল্পিত প্রেম কাহিনী নিয়ে আলাদাভাবে বহু ভারতীয় সাহিত্য রচিত হয়েছে। তবে মূল মহাভারতে অম্বার পাণিপ্রার্থী শাল্বরাজ অম্বাকে পরপুরুষ ছুঁয়েছে অভিযোগে করে পরিত্যাগ করে। আবার আরেক সংস্করণে পাণিপ্রার্থী শাল্বরাজকে অযথা হত্যার জন্য ভীষ্মের উপর অম্বা তীব্র রকমের ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন, যেটি পরে দ্বন্দ্বে গিয়ে গড়ায়। বাকি দু’জন, অম্বিকা ও অম্বালিকার সাথে রাজা বিচিত্রবীর্যের বিয়ে দেন ভীষ্ম । কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ বিবাহের মাত্র সাত বছর পর কোনো উত্তরাধিকারী না রেখেই পঞ্চত্বপ্রাপ্তি ঘটে বিচিত্রবীর্যের । এদিকে সর্বদিকে প্রত্যাখ্যাত হয়ে অম্বা ভীষ্মকে তাকে বিবাহ করতে বললে ভীষ্ম তা করতে অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অম্বা ভগবান পরশুরামকে ভীষ্মের বিরুদ্ধে যথাবিহিত করার আহ্বান করলে পরশুরাম তাকে নিয়ে ভীষ্মের কাছে উপস্থিত হয়ে দু’টি বিহিত করার আদেশ দিলেন: অম্বাকে বিবাহ কর,  অথবা আমার সাথে যুদ্ধ কর। ভীষ্ম বিনীতভাবে তার গুরুদেবের কাছে নিজের চিরকুমার থাকার প্রতিজ্ঞার কথা উপস্থাপন করলেন। এতে ক্রুদ্ধ হলেন ভগবান পরশুরাম এবং এরই ফলশ্রুতিতে গুরু-শিষ্য জড়িয়ে ভয়ংকর যুদ্ধে । দীর্ঘদিনের যুদ্ধে কেউই কাউকে হারাতে না পারায় দেবতারা উপস্থিত হয়ে তাদের যুদ্ধে নিরস্ত করলেন। এসময় অম্বা দেবতাদের কাছে পরজন্মে ভীষ্মের মৃত্যুর কারণ হতে চেয়ে বর চাইলে দেবতারা তা পূরণ করেন। বর প্রাপ্ত হয়ে অম্বা তখনি নিজেই নিজের চিতা সাজিয়ে তাতে দেহত্যাগ করেন। অম্বা পরবর্তীতে পাঞ্চালরাজা দ্রুপদের প্রথম কন্যা সন্তান হিসেবে জন্ম নেন। এ জন্মে তার নাম ছিল শিখণ্ডী।

আরও পড়ুনঃ  বর্বরিকঃ কৃষ্ণকে মস্তক উৎসর্গকারী শ্রেষ্ঠ ধনুর্বিদ || খাটু শ্যামের কাহিনী ||

এদিকে বিচিত্রবীর্য ও চিত্রাঙ্গদের কোন উত্তরাধিকারী না রেখে যাওয়ায় সংকটে পড়ে কুরুবংশ । ভীষ্মের ভীষন প্রতিজ্ঞার কারনে তিনি নিজেও কুরুবংশের জন্য সন্তান উৎপাদন করতে পারবেন না। এসময় তিনি তার বিমাতা সত্যবতীর সাথে শলা-পরামর্শপূর্বক সত্যবতীর আরেক পুত্র কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস মুনিকে  নিয়োগের উদ্দেশ্যে আবাহন করেন।  মহর্ষি  কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস ধীবরকন্যার সন্তান হওয়ায় তার শরীরে মৎস্যগন্ধ ছিলো, এবং তার সন্ন্যাসীর সাজপোশাক দেখে বিচিত্রবীর্যের দুই রাণী তাকে পছন্দ করলেন না। তবে ভীষ্ম আর সত্যবতীর চাপে তারা উভয়েই মহর্ষি  কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস কর্তৃক নিয়োগের মাধ্যমে সন্তানসম্ভবা হলেন। কিন্তু নিয়োগের সময় অম্বিকা চোখ বন্ধ রেখেছিলেন , তাই বেদব্যাস তাকে অন্ধ পুত্র জন্ম দেয়ার অভিশাপ দেন। অন্যদিকে অম্বালিকা বেদব্যাসের সন্ন্যাসীর সাজ দেখে ভয়ে পাংশুটে চেহারা হয়ে গিয়েছিলেন। তাই বেদব্যাসের অভিশাপে তার পাণ্ডুবর্ণ পুত্র জন্ম হবে বলে জানলেন। এভাবেই এক রাণীর গর্ভে অন্ধ ধৃতরাষ্ট্র, অপর রাণীর গর্ভে পাণ্ডুর জন্ম হয়। অন্ধ পুত্র জন্মের কারণে অম্বিকার শাশুড়ি সত্যবতী পুনর্বার তাকে বেদব্যাসের কাছে যেতে বলেন। তখন রাণী তার এক শূদ্র দাসীকে তার কাছে পাঠিয়ে দেন। সেই দাসীর গর্ভে মহামতি বিদুরের জন্ম হয়।

ভীষ্ম এই পিতৃহীন, অভিভাবকহীন সন্তানদের পিতৃসম অভিভাবকের দায়িত্ব তুলে নিয়েছিলেন নিজের কাধে। তার দায়িত্ববোধ ও অনুশাসনের জন্যই ধৃতরাষ্ট্র, পাণ্ডু, বিদুর সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে পেরেছিলেন। বিদুর এদের মাঝে সবচেয়ে বেশি ধর্মবেত্তা, পাণ্ডু অতুলনীয় ধনুর্ধর, আর ধৃতরাষ্ট্র সর্বাপেক্ষা অধিক বলশালী ছিলেন। প্রত্যেকেই প্রাপ্তবয়স্ক হলে ভীষ্ম পাণ্ডুকে রাজা নির্বাচিত করেন। এতে ধৃতরাষ্ট্র মনে মনে পাণ্ডুর প্রতি ক্ষুব্ধ হলেও বিদুর তার মহামন্ত্রীর পদ নিয়েই তুষ্ট ছিলেন। ভীষ্ম পাণ্ডুকে যাদব বংশের কুন্তি ভোজের পালিতা কন্যা কুন্তি এবং মদ্রদেশের রাজা শল্যের ভগিনী মাদ্রীর সাথে বিয়ে দেন। আর ধৃতরাষ্ট্রকে গান্ধার রাজ্যের রাজা সুবলের সাথে ভাতৃত্ব গড়তে তার কন্যা গান্ধারীর সাথে বিয়ে দেন। বিয়ের পর গান্ধারী তার স্বামী দৃষ্টিহীন হওয়ায় চোখে এক টুকরো কাপড় বেঁধে রেখে নিজেও দৃষ্টিহীন থাকার সিদ্ধান্ত নেন।

 

অন্যদিকে কুন্তির বড় সন্তান কর্ণের জন্ম রহস্যের ব্যাপারে ভীষ্ম আগে থেকেই জ্ঞাত ছিলেন। তাই কর্ণ, দুর্যোধনের মতো অধার্মিকদের সাথে জোটবদ্ধ হলে ভীষ্ম রুষ্ট হন। এজন্য তিনি প্রায়ই কর্ণকে নানাভাবে কটাক্ষ করে অপমানকর মন্তব্য করতেন। কর্ণের অহংকারী আচরণেরও তীব্র সমালোচনা করতে ছাড়তেন না। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে কর্ণকে অপমানিত করে তিনি নিজে নিহত না হওয়া পর্যন্ত কর্ণের প্রবেশ বন্ধ রেখেছিলেন। একারনে ১০ম দিনের যুদ্ধে ভীষ্ম শরবিদ্ধ হওয়ার পরে একাদশ তম দিনে কর্ণ যুদ্ধ করতে নামেন কুরুক্ষেত্রে। পিতৃহীন পঞ্চপাণ্ডবরাই ভীষ্মের বিশেষ প্রিয় ছিলো ভীষ্মের। তন্মধ্যে অর্জুনের প্রতি তিনি বিশেষ স্নেহবর্ষন করতেন। দুর্বুদ্ধি সম্পন্ন ধৃতরাষ্ট্র-পুত্রদের হাত থেকে তাদের রক্ষার জন্য তিনি বিশেষ সচেষ্ট ছিলেন কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের সময়ও।

মহাভারতে বর্ণিত কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ ব্যতীত ভীষ্ম তার জীবনে অনেক যুদ্ধ করে কুরু সাম্রাজ্যের বিস্তার ঘটিয়েছিলেন। মহাবীর কর্ণকে দুর্যোধন যে অঙ্গ দেশ দান করেছিলেন, তা ভীষ্মেরই জয় করা অঞ্চল। তবে, কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে কৌরব পক্ষকে নেতৃত্ব দেয়ার জন্যই ভীষ্ম অধিক স্মরণীয়। ভীষ্ম সর্বমোট দশদিন কুরুক্ষেত্রে কৌরব পক্ষকে বীরত্বের সাথে পরিচালনা করেছিলেন। তবে পাণ্ডবদের বিপক্ষে তিনি স্নেহ বশত দুর্বল ছিলেন। এই দশদিনের বিশাল যুদ্ধের প্রথম দিনে ভীষ্মের নেতৃত্বে কৌরব পক্ষ সর্বতোমুখ ভয়ংকর ব্যূহ নামে একটি ব্যূহ রচনা করে পাণ্ডবদের আক্রমণ করে। জবাবে পাণ্ডবদের শ্যালক ও সর্বাধিনায়ক ‘ধৃষ্টদ্যুম্ন’ বজ্র ও অচল নামক দু’টো ব্যূহ রচনা করে তা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেন। এইসময় অর্জুন ও তার পুত্র অভিমন্যুর সাথে ভীষ্ম ঘোর যুদ্ধে লিপ্ত হন। এদিন ভীষ্ম পাণ্ডবদের এক সেনাপতি বিরাটরাজের ছেলে শ্বেতকে হত্যা করেন। ভীষ্মের বীরত্বে এদিন কৌরব পক্ষ বিজয়ী হয়।

দ্বিতীয় দিনে পাণ্ডবরা ক্রৌঞ্চারুণ নামক ব্যূহ রচনা করে। এদিনও ভীষ্মের সাথে অর্জুনের তীব্র যুদ্ধ হয়। এরপর ভীমকে ব্যাপক কৌরব সৈন্য বধ করতে দেখে তাকে বাধা দিতে এগিয়ে আসেন। ভীমের রথ ধ্বংস করে তাকে ভূপাতিত করেন। ভীমও এসময় ভীষ্মের সারথিকে বধ করলে ভীষ্ম দ্রুত বেগে নিজেই রথ চালিয়ে যুদ্ধক্ষেত্র ত্যাগ করেন। এদিন অর্জুনের বীরোচিত ভূমিকায় পাণ্ডবদের জয় হয়।

আরও পড়ুনঃ  জন্মাষ্টমী কি? কেন ও কিভাবে পালন করবেন শ্রীকৃষ্ণজয়ন্তী?

৩য় দিন ভীষ্ম গড়ুর ব্যূহ এবং পাণ্ডবরা অর্ধচন্দ্র ব্যূহ রচনা করেন। প্রথমে উভয়পক্ষই সমান তালে লড়াই করলেও কিছুক্ষণ পর যুদ্ধের ফলাফল পাণ্ডব পক্ষে যেতে শুরু করে। তখন ভীষ্ম আগ্রাসী ভাবে সৈন্যদল নিয়ে পাণ্ডবদের আক্রমণ করেন। এতে পাণ্ডবরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পরে এবং পালাতে শুরু করে। ভীষ্মের শরাঘাতে বহু সৈন্য হতাহত হওয়ার বিপরীতে অর্জুনকে নিশ্চেষ্ট হয়ে বসে থাকতে দেখে কুরুক্ষেত্র শ্রীকৃষ্ণ প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করে রথের চাকা হস্তে ভীষ্ম বধে উদ্যত হন। পরে অর্জুনের কথায় তিনি নিরস্ত হন। এরপর অর্জুন মাহেন্দ্র অস্ত্র প্রয়োগ করে কৌরব সৈন্য বিধ্বস্ত করে বিজয় ছিনিয়ে নেন।

৪র্থ দিন উভয়পক্ষেই অনেক বীর হতাহত হয়। এদিন ভীম দুর্যোধনের ১৪ ভ্রাতা হত্যা করেন। ভীমের রাক্ষস পুত্র ঘটোৎকচের সহায়তায় সেদিনও পাণ্ডবদের জয়লাভ হয়।

৫ম ও ৬ষ্ঠ  এই দুই দিন ভীষ্ম মকর ও ক্রৌঞ্চ ব্যূহের বিপরীতে পাণ্ডব পক্ষ শ্যেন ও মকর ব্যূহ নির্মাণ করে সৈন্য পরিচালনা করে। পঞ্চম দিনে অর্জুন পঁচিশ হাজার মহারথ বধ করেন। এখানে মহারথ হচ্ছে কয়েক রথের সমন্বয় গঠিত বাহিনীর নায়ক।  ষষ্ঠ দিনে ভীষ্ম ও দ্রোণের সাথে ভীম এবং অর্জুনের ব্যাপক যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এদিন ভীম দুর্যোধনের চার ভাইকে হত্যা করেন।

সপ্তম ও অষ্টম দিনে ভীষ্ম মণ্ডল, কূর্ম ব্যূহ এবং পাণ্ডবরা বজ্র ও শৃঙ্গাটক ব্যূহ তৈরি করে যুদ্ধ করেছিল। সপ্তম দিনে প্রাণের মায়া ত্যাগ করে ভীষ্মের যুদ্ধে পাণ্ডবদের অনেক বীর পরাজিত হয়। এদিন শিখণ্ডী ভীষ্মের সাথে দ্বৈরথে নামেন। তবে পরাজিত হন। অষ্টম দিনে বিভিন্ন বীরযোদ্ধারা পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নিহত হন। ঘটোৎকচের মায়াবী যুদ্ধে ও অর্জুনের বীরত্বে কৌরব পক্ষ পরাজিত হয়। এদিন ভীম দুর্যোধনের সাত ভ্রাতার প্রাণ হরন করেন।

৯ম দিনে ভীষ্মের অমানুষিক বিক্রমে পাণ্ডবদের হতশ্রী দশা শুরু হয়। অর্জুনের ক্লীবত্ব দেখে এদিন শ্রীকৃষ্ণ ফের প্রতিজ্ঞাভঙ্গ করে রথের চাকা তুলে ভীষ্মকে বধে এগিয়ে যান। এসময় ভীষ্ম ও অর্জুনের অনুরোধে কৃষ্ণ তার সংকল্প ত্যাগ করেন এবং সেদিনকার মতো যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।

দশম দিনের যুদ্ধের পূর্ব রাত্রে শ্রীকৃষ্ণের পরামর্শ অনুযায়ী পাণ্ডবরা লুকিয়ে ভীষ্মের শিবিরে গিয়ে তাকে বধের উপায় জানতে চান। ভীষ্ম তখন তার প্রতিজ্ঞা এবং শিখণ্ডীর সামনে অস্ত্র ত্যাগের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে দেন। সেই অনুযায়ী পাণ্ডবরা শিখণ্ডীকে অগ্রগামী করে তার পেছনে পেছনে গিয়ে ভীষ্মের সামনে দশম দিনে রণভূমিতে উপস্থিত হন। ভীষ্ম অস্ত্রত্যাগ করলে পাণ্ডবরা তাকে তীব্র শরবর্ষণ করে রথ থেকে ভূপাতিত করেন। বাণবর্ষণে আহত ভীষ্ম তখন ভূমিতে সেই তীরের উপরই শয্যাশায়ী হন! এটিই বিখ্যাত ‘ ভীষ্মের শরশয্যা’ নামে পরিচিত। তবে তিনি যেহেতু ইচ্ছামৃত্যুর বরদান প্রাপ্ত ছিলেন তাই সহস্র শরবর্ষনেও তার মৃত্যু ঘটেনি। ভীষ্ম একটানা আটান্ন দিন (মতান্তরে, কোথাও ছাপ্পান্ন বা সাতান্ন দিন) রণভূমিতে শরশয্যায় ছিলেন। ভীষ্ম উত্তরায়ণ তিথি নামক এক পবিত্র তিথিতে মৃত্যুবরণের সংকল্প করেছিলেন।

যুদ্ধে জয়ের পর শরশয্যায় শায়িত ভীষ্মের কাছে সাম্রাজ্য পরিচালনার জন্য উপদেশ চাইতেগিয়েছিলেন বিজয়ী সম্রাট যুধিষ্ঠির। ভীষ্ম এসময় বিভিন্ন উপকথার মাধ্যমে রাষ্ট্র, কূটনীতি, রাজনীতি বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা করেছিলেন। এসব উপকথা মহাভারতকে বিশেষভাবে সমৃদ্ধ করেছে।

একদা ভীষ্মের শরশয্যার স্থানে উপস্থিত হন কর্ণ। কর্ণের উদ্দেশ্য ছিল পিতামহ ভীষ্মকে অভিবাদন করে যুদ্ধ জয় করার আশীর্বাদ নিতে। ভীষ্ম কর্ণের মঙ্গল কামনা করলেও যুদ্ধ জয় করার আশীর্বাদ দিতে অসম্মত হন। এছাড়া এই সময় কর্ণকে তার আসল মাতার তথা কুন্তির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এই ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত থেকে বিরত থাকতে বলেন। জবাবে কর্ণ তার দুর্যোধনের কাছে করা প্রতিজ্ঞা এবং অর্জুনের সাথে দীর্ঘদিনের লালিত দ্বৈরথের কথা ভেবে তা অগ্রাহ্য করেন। ভীষ্ম তখন তাকে ভগবান পরশুরামের দেওয়া অভিশাপের ব্যাপারে মনে করিয়ে দিয়ে সাবধান করেন। প্রসঙ্গত পরশুরাম কর্ণকে অভিশাপ দিয়েছিলেন, সংকটকালে দিব্যাস্ত্র ত্যাগের কৌশল তাঁর মাথায় আসবে না । তবে এসব ন্যূনতম প্রভাবই ফেলে কর্ণের সিদ্ধান্তে। যার ফলশ্রুতিতে জ্যেষ্ঠ্য ভ্রাতা কর্ণের নির্মম মৃত্যু ঘটেছিল তারই কনিষ্ঠ ভ্রাতা অর্জুনের হাতে।

যাইহোক, অবশেষে এল ভীষ্মের সেই প্রতীক্ষিত তিথি। দক্ষিণায়ন তিথি শেষ হয়ে উত্তরায়ণ তিথি এলে সেই শুভক্ষণে দীর্ঘজীবী ভীষ্ম তার দীর্ঘ ও অভিশপ্ত পার্থিব জীবনের ইতি টানলেন। তবে, ভীষ্মের কাহিনী মহাভারতের এতো ব্যাপকভাবে জড়িয়ে আছে যে তাকে ছাড়া এই মহাকাব্যের পাঠ অসম্পূর্ণ। তিনি প্রায় প্রত্যেক চরিত্রের যোগসূত্র হিসেবে কাজ করেছেন। দুর্যোধনের কথায় আহত হয়ে পাণ্ডবদের উপর প্রহার করলেও আদরবশতঃ অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করেননি। পিতার সুখের জন্যে নিজের সুখ ত্যাগ করা, কুরুবংশের অভিভাবক স্বরূপ দায়িত্ব পালন, সুন্দরী অম্বার সাথে তার বৈচিত্র্যময় সম্পর্ক ও দ্বন্দ্ব ইত্যাদি কাহিনী মিলিয়ে এই চরিত্রের দীর্ঘদিনের জীবনের এতো ভরপুর তথ্য আছে যে তা দিয়ে আরেকটা মহাকাব্য রচনা সম্ভব।

5/5 - (1 vote)

Leave a Reply