You are currently viewing সনাতন ধর্মের প্রাচীন ৮টি শক্তিশালী প্রতীক, যার সাথে জড়িয়ে আছে অলৌকিক শক্তি || 8 Symbols of Hinduism

সনাতন ধর্মের প্রাচীন ৮টি শক্তিশালী প্রতীক, যার সাথে জড়িয়ে আছে অলৌকিক শক্তি || 8 Symbols of Hinduism

সনাতন ধর্ম। বিশ্বের প্রাচীনতম এবং প্রাচীনদের মধ্যে একমাত্র জীবিত ধর্মবিশ্বাস। এই দীর্ঘ কালপরিক্রমার পরেও আজও সগৌরবে টিকে থাকা এই ধর্মের অলৌকিকত্ব এবং রহস্যের জাল ভেদ করা অত্যন্ত দুঃসাধ্য। সনাতন ধর্মের ধর্মগ্রন্থগুলোর পাতায় পাতায় ঠিক যতটা রহস্যময়তা ও অলৌকিকত্বের সন্ধান পাওয়া যায়, ঠিক ততটাই রস্যাবৃত, অলৌকিক ও ক্ষমতাসম্পন্ন এর প্রতীক বা চিহ্নগুলো। আপনারা সকলেই জানেন আমাদের ধর্ম কতটা চিহ্ন বা প্রতীকতায় সমৃদ্ধ। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন এই চিহ্ন বা প্রতীকগুলোর গুরুত্ব কতখানি? কেন সুপ্রাচীন কাল থেকে এই চিহ্নগুলোকে পরম পবিত্র মেনে ধর্মীয় কার্যে ব্যাবহার করা হয়? আসুন আজ আমরা এমন কিছু সনাতনী প্রতীকের অর্থ জেনে নিই যেগুলোর অন্তর্নিহিত তাৎপর্য জানলে আপনারও চোখ কপালে উঠবে। তথ্যগুলো জানার পর কমেন্ট বক্সে অবশ্যই জয় শ্রীকৃষ্ণ লিখে কমেন্ট করবেন।

১. অউম

সনাতন ধর্মের সুবচেয়ে বহুল ব্যাবহৃত শব্দগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে অউম। অনেকেই এটিকে ওম উচ্চারণ করলেও চিহ্নটির প্রকৃত উচ্চারণ হচ্ছে “অউম”। সাধারণত কোন মন্ত্র উচ্চারণ, দেবদেবীর পূজা আরম্ভ, শুভকাজের সূচনা প্রভৃতি কাজে অউম শব্দের ব্যাপক ব্যাবহার লক্ষ্য করা যায় আমাদের সনাতন সমাজে। কিন্তু জানেন কি অউম আসলে কি?

আসলে ওঁ বা ওঙ্কার হিন্দু, বৌদ্ধ ও জৈনধর্মের পবিত্রতম ও সর্বজনীন একটি প্রতীক। অউম শব্দটি উচ্চারণ করে স্তব করা হয় বলে এর নাম প্রণব এবং তিনটি মাত্রাযুক্ত হওয়ার কারনে একে ত্র্যক্ষরও বলা হয়ে থাকে। অর্থাৎ, অ কার উ কার ও ম কারের সমন্বয়ে গঠিত হয় অউম শব্দটি। বলা হয় ‘অ-কার’ হচ্ছে‘আপ্তি’ বা ‘আদিমত্ত্ব’ অর্থাৎ প্রারম্ভের প্রতীক। ‘উ-কার’ ‘উৎকর্ষ’ বা ‘অভেদত্ব’-এর প্রতীক। এবং ‘ম-কার’ ‘মিতি’ বা ‘অপীতি’ অর্থাৎ লয়ের প্রতীক। তবে সর্বজন স্বীকৃত ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এটি সৃষ্টি, স্থিতি ও প্রলয় সংঘটনকারী সেই অনাদি ঈশ্বরেরই প্রতীক। ব্যুৎপত্তি অনুযায়ী ওঁ-কার এমন এক শক্তি যা সর্বজ্ঞ, সমগ্র ব্রহ্মাণ্ডের শাসনকর্তা, অমঙ্গল থেকে রক্ষাকর্তা, ভক্তবাঞ্ছাপূর্ণকারী, অজ্ঞাননাশক ও জ্ঞানপ্রদাতা।

তাই বেদ, উপনিষদ, গীতা ও অন্যান্য ধর্মশাস্ত্রে ও সর্বত্রই অউম কারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। অথর্ববেদের গোপথব্রাহ্মণে বর্ণিত একটি ঘটনা থেকে জানা যায়,  দেবরাজ ইন্দ্র এই অউম কারের সহায়তায় দৈত্যদের পরাস্ত করেছিলেন। শাস্ত্রমতে, অউম কার বারংবার উচ্চারণের মাধ্যমে  মানুষ তার পাশবিক প্রবৃত্তি জয় করতে সমর্থ হয়। মুণ্ডক উপনিষদেও অউম কার অবলম্বনে ঈশ্বর উপাসনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও গীতায় শ্রীভগবান বলেছেন, তিনি সকল অক্ষরের মধ্যে অউম কার। তাই মৃত্যুকালে অউম কারের উচ্চারণে পরম সত্য লাভ হয়ে থাকে।

২. তিলক

সনাতন ধর্মের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ চিহ্ন বা প্রতীক হচ্ছে তিলক। আমাদের সনাতন সমাজে আজও বহু মানুষ তিলক পরেন এবং অনেকেই তা দেখে অভ্যস্ত। অনেকে আবার নিজে তিলক পরিধান করলেও এর সঠিক গুরুত্ব বা তাৎপর্য অনুধাবন করতে পারেন না। তিলক মূলত একটি চিহ্ন যা সাধারণত কপালে, অজ্ঞান চক্রের বিন্দুতে বা কখনও কখনও শরীরের অন্য অংশ যেমন ঘাড়, হাত, বুক বা বাহুতে পরিধান করা হয়। সম্প্রদায়ভেদে চন্দন, খড়িমাটি জাতীয় গুঁড়ো, ভস্ম, সিঁদুর প্রভৃতি দিয়ে অঙ্কিত হয় তিলক। বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী বৈদিক যজ্ঞানুষ্ঠান থেকেই ললাটে হোমভস্মের টিকা ধারণ করার এই প্রথা চালু হয়েছে বলে জানা যায়।

আরও পড়ুনঃ  অশ্বিনীকুমার কারা? কিভাবে জন্ম হয়েছিল তাঁদের? সুকন্যা ও চব্যনের কাহিনী। Vedic Ashwini Kumar Brothers

বলা হয় বৈদিক যুগ থেকেই শৈব সম্প্রদায়ের মধ্যে কপালে ত্রিপুণ্ড্র নামক তিলক আঁকার চল ছিল। এবং পরবর্তীতে শৈবদের পাশাপাশি শাক্ত, বৈষ্ণব, সৌর এবং গাণপত্য সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভিন্ন আঙ্গিকে তিলক অঙ্কন শুরু হয়। বিভিন্ন সম্প্রদায় যেসব ভঙ্গিতে তিলক ধারণ করে তার অনুপ্রেরণা এসেছে স্বস্ব ইষ্ট দেবদেবীর মূর্তিতে অঙ্কিত বিভিন্ন চিহ্ন থেকে। যেমন শৈবদের ললাটে অঙ্কিত ত্রিপুন্ড্র চিহ্ন শিবলিঙ্গ বা শিবের কপালে অঙ্কিত চিহ্নের অনুরূপ। আবার বিষ্ণুমূর্তির ললাটে অঙ্কিত চিহ্নের অনুকরনে তিলকচিহ্ন অঙ্কন করেন বৈষ্ণবরা। আবার শক্তিদেবীর ললাটস্থ ত্রিনয়নের নিম্নে যে রক্তবর্ণ বিন্দুচিহ্ন দেখা যায় তার অনুকরণে শাক্তরা কপালে ধারণ করে লাল বিন্দুচিহ্ন। তবে তিলক সাধারন একটা প্রতীক বা চিহ্ন নয়। আধ্যাত্মিক গুরুত্বের পাশাপাশি তিলক ব্যাবহারে ব্যক্তিত্ব প্রভাবশালী হয় এবং আত্মবিশ্বাস এবং আত্মবলকে প্রভূতভাবে বৃদ্ধি করে। তাছাড়া মাথা হালকা হওয়া শান্তি ও স্বস্তি অনুভব করাসহ অনেক ধরনের মানসিক রোগ প্রতিরোধ করে তিলক। আধ্যাত্মিকভাবে তিলক মানুষের পাপ নষ্ট করে,  সংকট থেকে রক্ষা করে এবং গ্রহদের শান্তি বিজায় রাখে।এছাড়াও যে ব্যাক্তি তাঁর ললাটে চন্দনের প্রলেপ পরিধান করেন তাঁর গৃহ অন্ন ও ধন-সম্পদে পরিপূর্ণ থাকে এবং সৌভাগ্য বৃদ্ধি পায়।

৩. নটরাজ

দেবাদিদেব মহাদেব, তিনি একাধারে সন্ন্যাসী, মাতা পার্বতীর স্বামীরূপে গৃহস্ত, এবং ছাই ভষ্ম মাখা শ্মশানচারী। ভয়ঙ্কর রূপে তিনি দৈত্যবিনাশী, রুদ্ররূপে অপ্রতিরোধ্য এবং মহাকাল রূপে সমস্ত বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের প্রলয়কর্তা। অন্যদিকে তাঁর নামটি জড়িয়ে রয়েছে সঙ্গীত ও নৃত্যকলার সাথেও। এই নটরাজ মুর্তিই হচ্ছে দেবাদিদেব মহাদেবের নৃত্যরত ভঙ্গির অনুকল্প। পুরাণ মতে, দেবাদিদেব যখন ক্ষিপ্ত হন, তখনই তার এই ভয়ঙ্কর নৃত্যের রূপ প্রকাশ্যে আসে৷ ধ্যানমগ্ন অবস্থা বা মায়াসুরের পিঠে তাণ্ডব নৃত্যরত অবস্থাতেই এই নটরাজ মূর্তি জগদ্বিখ্যাত। তবে, শুধুমাত্র তিনি তাণ্ডবনৃত্যই করেন তা কিন্তু নয়। তাঁর নৃত্যের দুটি প্রকাশ হচ্ছে তাণ্ডব ও লাস্য। যখন কাল-মহাকাল বেশে মহাদেব প্রলয় নৃত্য করেন তখন তাঁকে নলা হয় তাণ্ডব নৃত্য। এই নাচ ধ্বংসাত্মক তথা মহাপ্রলয়ের পরিচয় বাহক। অপরদিকে লাস্য নৃত্য হল মধুর ও সুচারু নৃত্যকলা। এই আবেগময় লাস্য নৃত্য কলাকে পার্বতীর নাচ রূপেও কল্পনা করা হয়ে থাকে। আবার যেহেতু দেবাদিদেব অর্ধনারীশ্বর রূপেও অবস্থান করেন তাই অনেকে তাঁর লাস্য নৃত্যকে তাণ্ডবের নারীসুলভ বিকল্প বলেও মনে করেন। মোটকথা মহাদেবের এই দুই প্রকার নৃত্য সৃষ্টি ও ধবংসের সাথে সম্পর্কিত। বলা হয় মহাদেবের এই নটরাজ রূপের উপাসনা করলে, প্রাণে আসে তেজ,মনে আসে বল। 

৪. স্বস্তিক

শতভাগ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে স্বস্তিক চিহ্নটি একটি অতি পরিচিত ও পবিত্র প্রতীক। যে কোন পুজোপার্বণ বা মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানে সিঁদুর দিয়ে অঙ্কিত রক্তবর্ণের স্বস্তিক চিহ্ন জানান দেয় একটি সুপ্রাচীন ও রহস্যময় প্রতীকের অস্তিত্ব। আপনারা হয়ত অনেকেই জানেন না স্বস্তিক শব্দটির অর্থ হচ্ছে সু অস্তি বা শুভ অস্তিত্ব। এর মধ্যেই নিহিত আছে সকল ধর্মের মানুষের কল্যাণ । ১১ হাজার বছরেরও বেশি পুরনো এই চিহ্নের নানা রকমের প্রকারভেদের মত এর অর্থেও রয়েছে ব্যাপক ভিন্নতা। কোন মতে ভাল মন্দ, সুখ-দুঃখ যেমন চাকার মতো ঘুরছে তেমনি স্বস্তিকের বাহুগুলোও তেমনি অনন্তকাল আবর্তিত হচ্ছে বলে মনে হয়। কোন মতে স্বস্তিকের চারটি বাহু চার যুগের অর্থাৎ সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর ও কলি যুগের প্রতীক। আমার আমাদের চারটি বেদের প্রতীক বলে মনে করা হয় স্বস্তিকের চারটি বাহুকে। বলা হয় স্বস্তিকের চার বিন্দু চার দিকের প্রতীক। আবার এই চার বিন্দুকে এই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের প্রতীক বলেও মনে করা হয় যা শিব ও শক্তির মিলনে উদ্ভুত। তাই শুধুমাত্র সনাতন হিন্দু ধর্ম নয় বৌদ্ধ, জৈন ও হিন্দুধর্মের প্রভাবে প্রভাবিত অনেক ধর্মেই স্বস্তিক এক পরিচিত নাম। এর নাম থেকেই বোঝা যায় এর সাথেই জড়িয়ে রয়েছে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি। হিন্দু শাস্ত্র মতে, প্রাচীণ এই চিহ্ন দরজায় বা বাড়ির মূল প্রবেশ দ্বারে থাকা শুভ। অর্থাৎ এই চিহ্ন দর্শন করে যাত্রা করলে বা শুভ কাজের সূচনা করলে শুভ ফল পাওয়া যায়। আবার জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে হলুদ রঙ দিয়ে স্বস্তিক চিহ্ন আঁকলে দাম্পত্য জীবনের সমস্যা দূর হয় এবং গৃহের নেগেটিভ শক্তিকে দূর করে পজিটিভ শক্তির উপস্থিতি বাড়ায়

আরও পড়ুনঃ  দুর্গা পূজায় কুমারী পূজা কেন করা হয়? Why Virgin Girls are Worshiped During Durga Puja?

৫. বটবৃক্ষ

আজ্ঞে হ্যাঁ, বট গাছও সনাতন ধর্মের একটি পূজনীয় উপাদান ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। একারনেই ঐতিহ্যগতভাবে মন্দিরের সামনে রোপণ করা হয় এই জটাধারী মহীরুহকে। প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাস মতে এই যক্ষতরু ত্রিমূর্তির প্রতীক। অর্থাৎ বটবৃক্ষের শিখরে ভগবান বিষ্ণু, শিকড়ে ভগবান ব্রহ্মা, এবং শরীরে দেবাদিদেব মহাদেবের অবস্থান। তাছাড়া পুরাণ মতে এই গাছের কান্ডগুলিতে দেবতাদের আবাস। আপনারা জেনে আশ্চর্য হবেন, আমাদের প্রাচীন মান্যবর ঋষিগণ এই বটবৃক্ষের ছায়াতলে বসেই  বহু ধর্মীয় গ্রন্থের রচনা করেছিলেন। তাই মুনি ঋষিদের তপঃস্থান, পশুপাখিদের আশ্রয়স্থল, এবং বহুকালের সাক্ষী হিসেবে সনাতন ধর্মে একে দেওয়া হয়েছে বিশেষ মর্যাদা। তাছাড়া দেবী সীতা কর্তৃক রাজা দশরথের পিণ্ডদান করার জন্য সকল সাক্ষীরা রামের কাছে মিথ্যা সাক্ষ্য দিলেও একমাত্র বটগাছই শ্রীরামচন্দ্রের কাছে সত্য সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। তাই বটবৃক্ষকে প্রাণভরে আশীর্বাদ করেছিলেন দেবী সীতা। তিনি এই বৃক্ষকে আশীর্বাদ দিয়ে বলেছিলেন, যখন গয়ায় কেউ পিণ্ডদান করতে আসবে তারা তোমাকেও পূজা করে সুতো বেঁধে যাবে। তোমার আয়ু হবে দীর্ঘ, নাম হবে অক্ষয় বট। পরিশ্রান্ত মানুষ তোমার আশ্রয়ে খুঁজে পাবে পরম প্রশান্তি। তোমার ফল হবে পশুপাখিদের সুমিষ্ট খাবার। কালের সাক্ষী হয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকবে তুমি। তাই এই সকল কারনে বটবৃক্ষ আমাদের কাছে পবিত্রতম এক প্রতীক, এবং এর দর্শন স্পর্শন ও পুজন আমাদের জন্য শুভ বলে মানা হয়।

৬. শিবলিঙ্গ

সমগ্র বিশ্ববাসীর কাছে দেবাদিদেব মহাদেব তাঁর স্বরূপ বা নটরাজ রূপের চেয়ে শিবলিঙ্গ রূপে বেশী পূজিত হন।  আবার এই শিবলিঙ্গ নিয়ে বিতর্কেরও শেষ নেই। যারা এই শিবলিঙ্গের প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে অজ্ঞ তাঁরা প্রায়শই এটিকে নিয়ে নানা রকমের অশ্লীল মন্তব্য করে থাকেন। কিন্তু আসলে শিবলিঙ্গ মানুষের লিঙ্গ বা প্রজনন ইন্দ্রিয় নয়। এমনকি যৌনতার সাথেও এর বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই। শিবলিঙ্গ সংস্কৃত শব্দ। যেখানে লিঙ্গ শব্দটির বাংলা অর্থ হচ্ছে প্রতীক বা চিহ্ন। তাই শিবকে যে চিহ্ন বা প্রতীকের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয় সেটিই শিবলিঙ্গ। জেনে রাখা ভালো, শিব আত্মধ্যানে স্ব-স্বরূপে লীন থাকেন। আর সব মানুষকেও আত্মনিমগ্ন তথা ধ্যানমগ্ন হতে উপদেশ দেন। “লয়ং যাতি ইতি লিঙ্গম্”- অর্থাৎ যাঁর মধ্যে সমস্ত কিছু লয় প্রাপ্ত হয়, তাই লিঙ্গ। আর তাই ধ্যানমগ্ন শিবকে এই শিবলিঙ্গের সাহায্যে প্রকাশ করা হয়। শিবলিঙ্গের উপরে যে তিনটি সাদা দাগ থাকে সেটি এক প্রকার শৈব তিলক যার নাম ত্রিপুণ্ড্র। স্বয়ং শিবের কপালেও এই ত্রিপুণ্ড্র অঙ্কিত থাকে তাই শিবলিঙ্গ যদি জননেন্দ্রিয় বোঝাত তাহলে এটাতে এই ত্রিপুণ্ড্র থাকত না। যাইহোক, এই শিবলিঙ্গ মোট ৩টি অংশ নিয়ে গঠিত, সবার নিচের অংশকে বলা হয় ব্রহ্ম পিঠ, মাঝখানের অংশ বিষ্ণুপিঠ এবং সবার উপরের অংশ শিব পিঠ । শিবতত্ত্ব অনুসারে জানা যায়, শিবলিঙ্গ হচ্ছে ঈশ্বরের বিমূর্ত প্রতীক, দিব্য আলোকস্তম্ভ বা শিবের আদি-অন্তহীন সত্ত্বার প্রতীক এক আদি ও অন্তহীন স্তম্ভের রূপবিশেষ।

আরও পড়ুনঃ  পূর্বজন্মে পরম বিষ্ণুভক্ত হয়েও কেন পরজন্মে রাবণ ও কুম্ভকর্ণ রূপে জন্মাতে হল?

৭. পদ্ম ফুল

পদ্মফুল শুভ্রতা, শুচিতা, সুসংস্কৃতি, পবিত্রতা এবং শিষ্টাচারের প্রতীক। এছাড়াও এই পদ্মফুল সৃষ্টি, সৌন্দর্য এবং সিদ্ধিরও প্রতীক। আপনারা সকলেই জানেন, পদ্ম পাঁকে জন্মালেও এর ফুলেল অংশটি থাকে নিষ্কলুষ, বিশুদ্ধ ও পবিত্র। ঠিক একইভাবে পদ্মফুল প্রতীকের মাধ্যমে আমাদেরকে শিক্ষা দেওয়া হয়, আমাদের জন্ম যেখানেই হোক না কেন আমাদের কর্ম যেন হয় পদ্ম পুষ্পের মত নিষ্কলুষ ও শুভ্র। এই কারনে ত্রিদেব ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর সহ অসংখ্য দেব দেবীকে এই পদ্মপৃষ্ঠে ধ্যানরত অবস্থায় দেখা যায়। তাই পদ্ম আমাদের মনের শুচিতা ও সৌরভমণ্ডিত কর্মমূখর জীবনকে নির্দেশ করে।

৮. শ্রীযন্ত্র

শ্রীযন্ত্র বা শ্রীযন্ত্রম প্রতীকটির সাথে আমরা অনেকেই পরিচিত। ত্রিপুরা সুন্দরির শ্রীচক্র যন্ত্র বা শ্রীযন্ত্র নয়টি আন্তঃসংযোগকারী ত্রিভুজ দ্বারা গঠিত একটি মণ্ডল। এই ত্রিভুজগুলির মধ্যে চারটি সোজা ত্রিভূজ শিব বা পুরুষতন্ত্রকে নির্দেশ করে এবং পাঁচটি বিপরীত ত্রিভুজ শক্তি বা স্ত্রীলিঙ্গকে নির্দেশ করে। এই নয়টি ত্রিভুজ সম্পূর্ণ বিশ্বজগতের প্রতীক, যা একসাথে অদ্বৈত বেদ বা অ-দ্বৈততাকে প্রকাশ করে। বলা হয় এই যন্ত্র সংসারে লক্ষ্মীশ্রী বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এবং একইসাথে এই মহত্ত্বপূর্ণ যন্ত্র পড়ার ঘরে রাখলে শিক্ষার্থীদের জ্ঞাণ, মানসিক শক্তি বৃদ্ধি, একাগ্রতা বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে থাকে। তবে এই যন্ত্র যে শুধু লক্ষ্মীলাভের সহায়ক এমনটাই নয়, এর  সাহায্যে বিদ্যার স্থানকে বিশেষভাবে উন্নত করা যায় বলে মনে করা হয়।

5/5 - (1 vote)

Leave a Reply