You are currently viewing সনাতন হিন্দু ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা বা প্রবর্তক কে? || সনাতনের উৎপত্তি|| Who is the Pioneer of Hinduism?

সনাতন হিন্দু ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা বা প্রবর্তক কে? || সনাতনের উৎপত্তি|| Who is the Pioneer of Hinduism?

সনাতন হিন্দু ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা বা প্রবর্তক কে ?আপনি যদি সনাতন ধর্মের অনুসারী হয়ে থাকেন, তাহলে কোন না কোন সময় আপনার মনে এই প্রশ্ন অবশ্যই জেগেছে। এছারাও, ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের কাছ থেকেও এরকম প্রশ্ন আপনি আমি শুনেছি বহুবার। সত্যিই তো, সনাতন ধর্ম ব্যাতীত প্রায় অন্য সকল ধর্মের প্রবর্তক আছেন। তাহলে আমাদের ধর্মের প্রবর্তক কে?  এই প্রশ্নটা একটি ছোট সনাতনী ছেলে মেয়ের কাছে এমন হয়ে দাঁড়ায় যে, সবার পিতৃপরিচয় আছে কিন্তু তার পিতৃপরিচয় নেই কেনো ? বিষয়টা কিন্তু গভীর চিন্তার এবং প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরও যাদের কাছে এই প্রশ্নের উত্তর থাকে না, তাদের জন্য আরো গভীর হতাশার। হ্যাঁ, সময় এসেছে, এই প্রশ্নের উত্তর খোজার। আমরাও জানতে চাই কে বা কারা প্রবর্তন করেছিলেন আমাদের এই প্রাচীনতম ধর্ম। আপনার যদি মনে হয় এই প্রশ্নের উত্তর আপনার বা আপনার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জানা উচিত তাহলে, এই অবশ্যই মনোযোগ সহকারে শেষ পর্যন্ত পড়ুন।

সমাজে মান সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকা বা বাস করার জন্য একটি শিশু বা বালক-বালিকার কাছে তার পিতৃ পরিচয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ, গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে, সবার পিতৃপরিচয় আছে- তাই তারও পিতৃপরিচয় থাকা চাই। তেমনি অন্যান্য ধর্মের প্রবর্তক আছে বলে, আমার ধর্মেরও প্রবর্তক থাকা চাই। এটা নিতান্তই বালসুলভ একটি স্বভাব। ধর্ম মানে হচ্ছে গুণ বা বৈশিষ্ট্য, আবার কোনো ব্যক্তি বা বস্তু তার নিজের সত্তায় যা ধারণ করে বা বিশ্বাস করে সেটাও তার ধর্ম। যেমন আগুনের ধর্ম পোড়ানো, জলের ধর্ম ভেজানো; আবার আগুনের ধর্ম উর্ধ্বগামী অর্থাৎ আগুন জ্বললে তার শিখা উপরের দিকে উঠবে এবং জলের ধর্ম নিম্নগামী অর্থাৎ জল সব সময় প্রাকৃতিক নিয়মে নিচের দিকে নামবে। এইভাবে প্রকৃতির সৃষ্ট প্রত্যেকটা বস্তুর নিজস্ব বৈশিষ্ট্য বা ধর্ম আছে, যেটা প্রকৃতি ই তাদের মধ্যে সৃষ্টি করে দিয়েছে, কোনো মানুষের ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় তাদের এই স্বাভাবিক ধর্মের কোনো পরিবর্তন হবে না এবং তাদের কিছু যাবে ও আসবে না।

একই ভাবে প্রকৃতির সৃষ্ট প্রত্যেকটি গাছপালা তাদের নিজ নিজ ধর্ম পালন করে থাকে, যেমন- উপযুক্ত পরিবেশে বীজ পড়লে চারা গজায়, অনুকূল পরিবেশে বাড়ে, ফল দেয়, বাতাসে দোলে, দুর্বল গাছ ঝড়ে ভাঙ্গে, বৃষ্টির জলে তরতাজা হয়, প্রখর রোদে শুকিয়ে যায় এবং এইসব ধর্ম পালন করতে করতে নির্দিষ্ট একটা সময় পর শুকিয়ে যায়। কোনো ব্যক্তি বিশেষের কথায় প্রকৃতির এই গাছপালা কি তাদের ধর্ম বা বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করবে ? আবারও একই ভাবে, মানুষ ছাড়া প্রকৃতির প্রতিটি প্রাণীও তাদের নিজ নিজ ধর্ম পালন করে, গরু-মহিষ বছরে গড়ে একটি করে বাচ্চা ও দুধ দেয় এবং মানুষ তাদেরকে যেভাবে কাজে লাগায় সেভাবে কাজ করে, পাখিরা সন্ধ্যা হলেই বাসায় ফেরে এবং ঘুমিয়ে পড়ে এবং ঠিক ভোরে তারা কিচির মিচির শব্দে জেগে উঠে এবং সূর্যোদয়ের সাথে সাথেই বাসা থেকে বেরিয়ে যায়; কোনো মানুষের কথায় প্রকৃতির এই প্রাণীগুলো কি তাদের ধর্ম বা প্রতিদিনের জীবন যাত্রার পরিবর্তন করবে ?

আরও পড়ুনঃ  ভাইফোঁটার পিছনের ৩ পৌরাণিক কাহিনী || ভাইফোঁটা || Bhai Phota || Bhai Dooj || Mythological Stories

প্রত্যেকটি পদার্থেরও নিজ নিজ ধর্ম বা বৈশিষ্ট্য আছে; যেমন ধরুন লোহার ধর্ম কাঠিন্যতা বা শক্ত। এখন পৃথিবী উল্টে গেলেও লোহা কি তার এই ধর্ম পরিত্যাগ করবে ? লোহাকে কাজে লাগানোর জন্য আমরা তাপ দিয়ে লোহাকে হয়তো কিছুক্ষণের জন্য নরম করতে পারি বা তার রং পাল্টে কিছুটা লাল করতে পারি, কিন্তু স্বাভাবিক অবস্থায় ছেড়ে দিলেই লোহা তো আবার তার শক্ত রূপ এবং কালচে রং ই ধারণ করবে। তার মানে হলো প্রকৃতিতে সৃষ্ট প্রতিটা উপাদান বা জীবের নিজ নিজ ধর্ম বা বৈশিষ্ট্য আছে, যেটা সৃষ্টির সময় প্রকৃতি নিজেই তার মধ্যে ভ’রে দিয়েছে। প্রশ্ন হল এই সৃষ্টিজগতের মধ্যে মানুষ কি প্রকৃতির বাইরে ? নিশ্চয় নয়। তাহলে বোধ-বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ সৃষ্টির সময় প্রকৃতি নিজেই তার মধ্যে তার কর্তব্য কর্ম অর্থাৎ বৈশিষ্ট্য বা ধর্ম ভ’রে দেবে না কেনো ?

পৃথিবীতে সৃষ্ট প্রতিটি প্রাণীর মতো মানুষও তার আবির্ভাবের সাথে সাথে কিছু জৈবিক ধর্ম বা বৈশিষ্ট্য, যেমন-ক্ষুধা পেলে খাওয়া, টিকে থাকা বা বেঁচে থাকার চেষ্টা করা, একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়া, একটা নির্দিষ্ট বয়সে দেহে ও মনে যৌনতার অনুভব করা এবং একটা সময় মারা যাওয়া- এই জৈবিকধর্মগুলো সাথে করে এনেছিলো, যা প্রতিটি প্রাণীর স্বাভাবিক ধর্ম বা বৈশিষ্ট্য; কিন্তু মানুষের উন্নত মস্তিষ্ক্য সৃষ্টির সাথে সাথে মানুষ যখন ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় বিচার করতে শিখলো, তখন জৈবিক ধর্ম ছাড়াও মানুষের মনে এক নতুন ধর্ম বা বৈশিষ্ট্যের উদ্ভব হলো, যাকে বলা হয় মানবধর্ম। আর এই মানব ধর্মের সৃষ্টি হয়েছিলো, পৃথিবীর প্রাচীন সভ্যতা, আর্যসভ্যতার শ্রেষ্ঠ সন্তান আমাদের মুনি ঋষিদের দ্বারা; প্রকৃতির নির্যাস থেকে সংগৃহীত মুনি-ঋষিদের উপলব্ধিজাত এই সব বৈশিষ্ট্য বা ধর্মই হলো সনাতন ধর্ম, যার বর্তমানে হিন্দু ধর্ম নামেও বহুল প্রচলিত।

অর্থাৎ আধুনিক মানুষ তার বর্তমান দেহের আকৃতি মোটামুটি ২০ লক্ষ বছর আগে লাভ করলেও, বিবর্তনের ধারায় উন্নত মস্তিষ্ক্য সম্পন্ন মানুষের জন্ম হয় মোটামুটি ১০/১২ হাজার বছর আগে এবং এরাই পৃথিবীর নানা প্রান্তে ঘুরতে ঘুরতে এদেরই কোনো একটি দল মোটামুটি ৮/১০ হাজার বছর আগে সিন্ধু নদের তীরে এসে বসবাস করতে থাকে এবং গড়ে তোলে সিন্ধুসভ্যতা বা আর্যসভ্যতা, যে সভ্যতা পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতাগূলোর একটি এবং যে সভ্যতার লোকজন এখনও টিকে আছে হিন্দু নামসহ, মান সম্মান নিয়ে এবং মাথা উঁচু করে। পৃথিবীতে পাখি সৃষ্টি হওয়ার পর যেমন পাখির ধর্ম ও বৈশিষ্ট্য নির্ধারিত হয়েছে, তেমনি এটাও তো স্বাভাবিক যে, মানুষ যখন বুদ্ধিমান হয়ে সভ্যতা নির্মান করেছে, তখনই সেই সভ্যতা অনুযায়ী তাদের ধর্ম বা বৈশিষ্ট্য নির্ধারিত হয়েছে, এই ভাবেই সনাতন ধর্মের আবির্ভাব বা সৃষ্টি, যে ধর্মের বিধি বিধান রচিত বা সংকলিত হয়েছে ঈশ্বরের আশীর্বাদ পুষ্ট মুনি-ঋষিদের দ্বারা, তাই সনাতন মানব ধর্মের কোনো একক প্রবক্তা নেই; কারণ, এই ধর্ম প্রকৃতি থেকে উদ্ভূত বলে প্রাকৃতিক। আর যা কিছু প্রাকৃতিক তার জন্য কোনো একক মানুষের মত বা বিধান অর্থহীন।

আরও পড়ুনঃ  দেবী দুর্গার কোন হাতে কোন অস্ত্র? কোন অস্ত্রের কি মহিমা?

এবার একটা উদাহরন দেওয়া যাক, মনে করুন আপনি একটা স্কুল তৈরি করলেন, তাহলে স্কুল পরিচালনার বিধি বিধানও আপনি সাথে সাথেই তৈরি করবেন, এটাই স্বাভাবিক। কোনো কারণে কি আপনি স্কুল তৈরি করার ৫/১০ বছর পর সেই বিধি বিধান তৈরি করবেন ? কখনোই নয়, কারণ তাহলে আপনার সৃষ্টি করা স্কুল চলবেই না বা চালু করলেও নিয়ম কানুনের অভাবে তা ভেঙ্গে পড়বে। সেই ভাবে এটা খুব স্বাভাবিক যে, সৃষ্টিকর্তা এই পৃথিবীতে যখন আধুনিক বুদ্ধিমান মানুষের সৃষ্টি করেছেন, তখনই বা তার কিছু পরেই তাদের জন্য পালনীয় সব বিধি বিধান সৃষ্টি করেছে। সুতারাং, যেহেতু সনাতন ধর্ম হচ্ছে পৃথিবীর প্রাচীনতম ধর্ম সেহেতু এটিই সৃষ্টিকর্তা কর্তৃক নির্ধারিত মানুষের জন্য ধর্ম। অন্যভাবে বললে বলা যায় যেহেতু পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণী, উদ্ভিদ ও পদার্থ তার জন্মের সাথে সাথে প্রকৃতি থেকে তার জন্য নির্ধারিত ধর্ম প্রাপ্ত হয়েছে, সেহেতু মানুষও তার মধ্যে মনুষত্ব্যের উন্মেষ ঘটার সাথে সাথে তার জন্য নির্ধারিত ধর্ম প্রাপ্ত হয়েছে প্রকৃতি থেকেই। এবং এই প্রকৃতিই ব্যাপক অর্থে আমাদের সৃষ্টিকর্তা বা ঈশ্বর। তাহলে বলা চলে সনাতন ধর্মের প্রবর্তক স্বয়ং প্রকৃতি, কোন মানুষ নয়।

আপনারা জানেন মানুষ যা সৃষ্টি করে সেটা মত বা পথ এবং প্রকৃতি যা সৃষ্টি করে সেটা ধর্ম। যেমন আমাদের সনাতন ধর্মেই বহু মত ও পথ বিদ্যমান যেগুলো মানুষের দ্বারা সৃষ্ট। ঠিক এই কারনেই এগুলোকে ধর্ম না বলে মত বলা হয়। তাই সনাতন ধর্মের কোনো প্রবর্তক নেই, কারণ সনাতন ধর্ম প্রকৃতির সৃষ্টি ও মানুষের জন্য প্রকৃতির ধর্ম। এই জ্ঞান বা বোধ অতি উচ্চ মানের ধারণা, সাধারণভাবে শিশু বা বালকদের পক্ষে এই জ্ঞান বা ধারণাকে হৃদয়াঙ্গম করা কঠিন- যদি তারা সঠিক শিক্ষক বা গুরুর হাতে না পড়ে। প্রকৃতির ধর্ম বলেই প্রকৃতির সকল কিছু এই ধর্মের পূজা বা প্রার্থনার বিষয় । এখানে প্রশ্ন আসতে পারে, সনাতন ধর্মের মুনি-ঋষিরা সনাতন ধর্মের প্রবর্তক নয় কেনো ?

আসলে সনাতন ধর্মের কোনো কিছুই মানুষের উপর চাপিয়ে দেওয়া কিছু নয়, এগুলো মানুষের সাধারণ প্রবৃত্তির একটি সংবিধিবদ্ধ রূপ মাত্র, আমাদের মুনি ঋষিরা ঠিক এই কাজটিই করেছেন, তারা নিজেদের থেকে কোনো কিছু মানুষের উপর চাপিয়ে না দিয়ে মানুষ হিসেবে প্রতিটা মানুষের কী কর্তব্য-অকর্তব্য তা লিপিবদ্ধ করেছেন মাত্র। আপনি জেনে থাকবেন সনাতন ধর্মের এই সকল মুনি ঋষিদেরকে ভগবান বলে সম্বোধন করা হয়। সমগ্র ঐশ্বর্য , সমগ্র বীর্য , সমগ্র যশ, সমগ্র শ্রী,  সমগ্র জ্ঞান ও সমগ্র বৈরাগ্য এই ৬টি গুন যাঁর মধ্যে পূর্ণ-রূপে বর্তমান, সেই পরম পুরুষ হচ্ছেন ভগবান। তাই সনাতন ধর্মগ্রন্থে যে সকল ঐশ্বরিক নির্দেশ লিপিবদ্ধ আছে তা আসলে মুনি ঋষিদের রূপে ভগবানেরই নির্দেশ।

তাহলে প্রকৃতির সৃষ্ট বিভিন্ন পদার্থ ও প্রাণীর নিজ নিজ ধর্ম আছে, যা প্রকৃতিই তাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছে; তেমনিভাবে প্রকৃতির সৃষ্ট সনাতন মানবধর্মের বিধি বিধানও প্রকৃতিই নির্ধারিত করে দিয়েছে, একারণেই সনাতন ধর্ম হচ্ছে প্রকৃতি সৃষ্ট মানুষের ধর্ম তাই এই ধর্মের প্রবর্তক  কোন পার্থিব মানুষ নন। এ প্রসঙ্গে আরেকটি উদাহরণ দেওয়া যাক, বাঘ সিংহের জন্য প্রকৃতি সৃষ্ট ধর্ম হচ্ছে তৃণভোজী প্রাণীদেরকে হত্যা করে তাদের মাংস খাওয়া। এতে কিন্তু বাঘ সিংহের জন্য কোনো অন্যায় নেই। কারণ, প্রকৃতি ই তাদের জন্য এই নিয়ম তৈরি করে দিয়েছে। এই বিধানের কথা ই বলা আছে বেদ এ

আরও পড়ুনঃ  যে ৫ হনুমান চালিসা মন্ত্রে ভাগ্য বদলাবে আপনার

“জীবস্য জীবস্মৃতম”

অর্থাৎ- জীবন ধারণের জন্য এক জীব অন্য জীবকে আহার করবে খাদ্য রূপে ।

এবার খেয়াল করুন আপনার আশে পাশে যে সকল মাংসাসী প্রানীদেরকে দেখতে পান তাদের চোয়ালের দুপাশে সূচালো দুটি দাত বিদ্যমান। এছাড়াও মাংসাসী প্রানীরা যখন কোন তরল খাবার পান করে তখন তারা চুমুক না দিয়ে চেটে চেটে পান করে। আপনার গৃহপালিত বিড়াল এবং কুকুর ও মাংসাশী প্রাণী এবং এই বিষয়গুলো তাদের সাথে মিলিয়ে দেখতে পারেন। সুতারাং মাংসাসী প্রানীর শারিরীক গঠনই এদের ধর্ম মাংসাশী নির্ধারন করেছে।

এবার আপনার আশে পাশে যে সকল প্রাণী আমিষাহার করে না তাদের দিকে খেয়াল করুন। আপনার বাড়ির গৃহপালিত গরু বা ছাগল নিরামিষাষী প্রানীর উদাহরন হতে পারে। খেয়াল করে দেখুন এদের দাতের পাটি মানুষের মতই সমান, এরাও আমাদের মতই চুমুক দিয়েই তরল খাবার পান করে। তাহলে নিশ্চই বুঝতে পারছেন, মানুষের শরীরের বৈশিষ্ট অনুসারে মানুষ একটি নিরামিষাষী প্রানী। অর্থাৎ, মানুষের ধর্ম নিরামিষ খাবার গ্রহন করা। এভাবে প্রকৃতিই প্রাণীকুলকে তাদের ধর্ম নির্ধারন করে দিয়েছে,  তা সেটা খাবারের ক্ষেত্রেই হোক বা জীবনধারণের ক্ষেত্রে।গরু ছাগলকে আপনি যতই চেষ্টা করুন না কেন তাদেরকে আমিষ ভক্ষন করাতে পারবেন না। এবার দেখুন আমাদের সনাতন ধর্মে আমাদেরকে নিরামিষাশী হতে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। অর্থাৎ, কোন শিশুও বুঝতে পারবে যে সনাতন ধর্ম প্রকৃতির ধর্মের একটা অন্য নাম মাত্র।

সনাতন ধর্ম যে প্রাকৃতিক ধর্ম তা বোঝা যায় সনাতন শাস্ত্রে উল্লিখিত প্রাকৃতিক বিভিন্ন বিধানের কথা থেকেও-

“পরোপকারঃ পুন্যায়, পাপায় পরপীড়নম্।”

অর্থ : অন্যের উপকার করা ধর্ম, অন্যের অপকার করা অধর্ম।

“পরদ্রব্যেষু লোষ্ট্রবৎ”

অর্থাৎ- পরের দ্রব্যকে মাটির ঢেলার মতো জানবে।

“মাতৃবৎ পরদারেষু, কন্যাবৎ পরকন্যাষু”

অর্থাৎ- পরের স্ত্রী কন্যাদেরকে মায়ের মতো দেখবে।

এই নির্দেশগুলো সনাতন শাস্ত্রে লিপিবদ্ধ করা হলেও এগুলো মানুষের মানবিক বা প্রাকৃতিক ধর্ম নয় কি?

পরিশেষে,সনাতন ধর্মের প্রবর্তক কে ? এই প্রশ্নের উত্তরে এককথায় বলা যায়, ধর্ম যেহেতু ঈশ্বর বা সৃষ্টিকর্তার ব্যাপার, তাই তার কোনো প্রবর্তক থাকতে পারে না বা প্রবর্তক হয় না। সৃষ্টিকর্তা হিসেবে ঈশ্বর যখন কোনো পদার্থ বা জীবের জন্য কোনো বিধান তৈরি করে দেয় তখন তা হয় বৈশিষ্ট্য বা ধর্ম, এই সূত্রে প্রকৃতির ধর্ম, সনাতন মানবধর্মের সৃষ্টিকর্তা স্বয়ং ঈশ্বর; তাই সনাতন ধর্মের কোনো প্রবর্তক নেই। পরিশেষে, ঈশ্বরের সৃষ্ট ধর্মের জন্য প্রবর্তক থাকার প্রয়োজন আছে কী না তা আপনি স্বয়ং বিচার করুন।

5/5 - (1 vote)

Leave a Reply