You are currently viewing মহাভারতের ২৫ জন অভিনেতা-অভিনেত্রীর আসল পরিচয়।

মহাভারতের ২৫ জন অভিনেতা-অভিনেত্রীর আসল পরিচয়।

সনাতন ধর্মের বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনীর উপর ভিত্তি করে আজ পর্যন্ত নির্মিত হয়েছে শত শত নাটক, সিনেমা বা টিভি সিরিয়াল। কিন্তু এসকল নাটক, সিনেমা, গান বা সিরিয়ালের ভিড়ে একটি নাম একটু আলাদা ভাবে গুরুত্ব পায় আমাদের কাছে। সেটি হচ্ছে ২০১৩ সালে স্টার প্লাস নেটওয়ার্কে প্রচারিত টিভি সিরিয়াল মহাভারত। ২৬৯টি এপিসোডে নির্মিত এই সিরিয়াল প্রথম দিন থেকেই একটি স্থায়ী জায়গা তৈরি করে নেয় আপামর আবাল বৃদ্ধ বণিতার মনে । কাস্টিং, কস্টিউম ডিজাইন, ভিএফএক্স, চিত্রনাট্য, পরিচালনা সবকিছু মিলিয়ে এটি ছিল একটি মাস্টারপিস। তাই মানুষের মনে মণিকোঠায় স্থান দখল করার পাশাপাশি টিআরপিও বাড়িয়ে দিয়েছিল রাতারাতি। কিন্তু যারা এই সিরিয়ালে অভিনয় করেছিলেন তাদের সম্পর্কে কতটুকু জানি আমরা? আপনারা অনেকেই জানেন না এই মহাভারত সিরিয়ালে যারা শ্রীকৃষ্ণ, অর্জুন, কুন্তী, ব্রুশালী, দ্রোনাচার্য ইত্যাদি চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তাঁরা বাস্তবে সনাতন বা হিন্দু ধর্মেরই অনুসারী নন। শুধু তাই নয় হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, জৈন সহ নানা ধর্মের মানুষ এই সিরিয়ালে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রূপদান করেছিলেন। তবে ধর্ম ছাড়াও এসকল অভিনেতা অভিনেত্রীদের বয়স, জন্মস্থান, এবং পেশাগত ভিন্নতাও অবাক করে দেবে আপনাকে। তাহলে চলুন দর্শক মহাভারত সিরিয়ালের প্রধান চরিত্রে রূপদানকারী ২৫ জন অভিনেতাদের আসল পরিচয় জেনে নেওয়া যাক।

১. অর্জুন

মূল মহাভারত মহাকাব্যের মত মহাভারত সিরিয়ালের অর্জুন চরিত্রটি নজর কেড়েছিল দর্শকদের। সুদর্শন ও সুপুরুষ অর্জুনের চরিত্রে রূপদান করেছিলেন শাহীর শেখ। ১৯৮৪ সালে জন্ম নেওয়া এই কাশ্মীরি মুসলিম অভিনেতা ২০০৯ সালে একটি টেলিভিশন শো দিয়ে তার অভিনয় জীবনের যাত্রা শুরু করেন। এরপর ২০১৩ সালের মহাভারত সিরিয়ালে অর্জুন চরিত্রে মনোনিত হওয়ায় বদলে যায় তার ক্যারিয়ার। তার অসাধারন অভিনয়, সুশ্রী মুখমণ্ডল ও পেশিবহুল শরীরে মুগ্ধ হয়েছিলেন দর্শকবৃন্দ। ব্যাক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে রুচিকা কাপুরের সাথে এবং তাদের একটি সন্তানও রয়েছে।

২. দুর্যোধন

মহাভারতের অন্যতম প্রধান ও খল চরিত্র দুর্যোধন। তার কূটকৌশল, দুরাচারী স্বভাব, খল রণনীতি ও পাপী মনোভাবের হাত ধরেই মহাভারতের কাহিনী গড়িয়েছে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ পর্যন্ত। ২০১৩ সালের মহাভারত সিরিয়ালে এই গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র রূপায়ন করেছিলেন অর্পিত রঙ্কা। ১৯৮৩ সালে রাজস্থানে জন্ম নেওয়া এই খল অভিনেতা তার অভিনয় জীবন শুরু করেছিলেন ২০১২ সালে। তামিল, তেলেগু, কন্নড়, বাংলা, হিন্দি সহ বহু ভাষার চলচিত্র ও টেলিভিশন ধারাবাহিকে খল চরিত্রে অভিনয় করে তিনি মন কেড়েছেন দর্শকদের। মহাভারত সিরিয়ালে দুর্যোধনের চরিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি আরও একটি জনপ্রিয় টিভি সিরিয়াল রাধা কৃষ্ণতে তিনি অভিনয় করেছিলেন কংসের ভূমিকায়।

৩. কুন্তী

রাজা কুন্তীভোজের পালিতা কন্যা কুন্তী ছিলেন রাজা পাণ্ডুর স্ত্রী এবং যুধিষ্ঠির, ভীম ও অর্জুনের মাতা। মহাভারত মহাকাব্যে সূর্যদেবের প্রসাদ গ্রহণ করে কর্ণকে জন্মদান করে এবং দ্রৌপদীকে পঞ্চপাণ্ডবদের সাথে বিবাহ দিয়ে মহাভারতের কাহিনীর মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। আর এই চরিত্রটিই অত্যন্ত নিখুতভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন সাফাক নাজ নামের এই অভিনেত্রী। ১৯৯৩ সালে মুম্বাইতে জন্মগ্রহণ করা এই মুসলিম অভিনেত্রীর অভিনয় জীবন শুরু হয় ২০১০ সালে একটি টেলিভিশন ধারাবাহিকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে। এরপর ২০১৩ সালে মহাভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। ব্যাক্তিজীবনে তিনি, তার বোন ফালাক নাজ ও ভাই সেজান খান সবাই বিভিন্ন টেলিভিশন সিরিয়ালে অভিনয় করে থাকেন।

৪. ভীষ্ম

ভীষ্মের এক ভীষন প্রতিজ্ঞা থেকেই লিখিত হয়েছিল সমস্ত হস্তিনাপুরের নিয়তি। মহাভারতের প্রায় শুরু থেকে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের শেষ পর্যন্ত এক অত্যন্ত গুরুগম্ভীর ও প্রভাবশালী চরিত্র এই ভীষ্ম। মহাভারত সিরিয়ালেও সেই প্রভাবশালী চরিত্রের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল শক্তিমান অভিনেতা আরব চৌধুরীকে। ১৯৮১ সালে রাজস্থানের জয়পুরে জন্মগ্রহণ করা এই অভিনেতা পেশায় একজন অভিনেতা ও মডেল। মহাভারতে তার প্রভাবশালী ও গুরুগম্ভীর অভিনয় পারদর্শিতা তাকে নিয়ে গিয়েছিল এক অনন্য উচ্চতায়।

৫. দুঃশাসন

মহাভারতের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ খল চরিত্র হচ্ছে দুঃশাসন। দুর্যোধনের ছায়াসঙ্গী ও ভ্রাতা দুঃশাসন দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ কাণ্ডের অন্যতম খল নায়ক। আর এই চরিত্রে রূপদান করেছিলেন নির্ভয় বাধওা। তার সুগঠিত ও পেশিবহুল শরীর, হাড় হিম করা যুদ্ধকৌশল মানুষকে নাড়া দিয়েছে গভীরভাবে। তবে খল চরিত্রের বাইরেও Jai Hanuman – Sankat Mochan Naam Tiharo নামক টিভি সিরিয়ালে বালির চরিত্রে এবং Sankatmochan Mahabali Hanuman সিরিয়ালে হনুমানের চরিত্র সহ বেশ কিছু পৌরাণিক কাহিনী নির্ভর টিভি সিরিয়ালে অভিনয় করে মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  মহর্ষি ভৃগু কেন বিষ্ণুর বুকে পদাঘাত করেছিলেন? Why Rishu Bhrigu Kicked on The Chest of Lord Vishnu?

৬. সুভদ্রা

অর্জুন পত্নী ও ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ভগিনী সুভদ্রা দ্রৌপদীর মত কেন্দ্রীয় চরিত্র না হলেও মহাভারত জুড়ে তার রয়েছে নিবিড় পদচারনা। অভিমন্যুর মত মহাবীরের জন্ম হয়েছিল সুভদ্রার রত্নগর্ভ থেকে। আর এই চরিত্রে মহাভারত সিরিয়ালে অভিনয় করেছিলেন বিভা আনান্দ নামের এই অভিনেত্রী। ১৯৯৫ সালে দেরাদুনে জন্মগ্রহণ করা এই অভিনেত্রী শিশুকাল থেকে টিভি সিরিয়ালে অভিনয় করা শুরু করলেও ২০১৩ সালের মহাভারত সিরিয়াল তাকে এনে দেয় আকাশ ছোঁয়া খ্যাতি। বর্তমানেও এই অভিনেত্রী টেলিভিশন অভিনেত্রী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

৭. ভীম

ধৃতরাষ্ট্র ও গান্ধারীর শতপুত্র বধিত হয়েছিল যার হাতে তিনি ভীম। প্রবল শক্তিশালী এই যোদ্ধার চরিত্রে বেছে নেওয়া হয়েছিল ভারতীয় পেশাদার কুস্তিগির সৌরভ গুর্জারকে। আমরা সবাই তাকে ভীম হিসেবে চিনলেও কুস্তির মঞ্চে তিনি পরিচিত সাঙ্গা নামে। মহাভারত সিইরিয়ালটিই ছিল তার প্রথম অভিনয়ের জায়গা। কিন্তু কি আশ্চর্য কুস্তির আখড়ার এক পেশিবহুল কুস্তিগির ভীম চরিত্রে অভিনয় করে চমকে দিলেন সবাইকে। যুদ্ধের ময়দানে তিনি যতটা ভয়ংকর ততটাই নিরীহ ও শান্ত স্বভাবের অভিনয় করেছেন পারিবারিক দৃশ্যগুলোতে। সব মিলিয়ে ভীম চরিত্রে কঠিন ও নমনীয়তার এক অভুতপুর্ব সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন ১৯৮৫ সালে মধ্যপ্রদেশে জন্ম নেওয়া এই বিপুলবপু অভিনেতা।

৮. নকুল

পঞ্চপাণ্ডবের চতুর্থ পাণ্ডব নকুলের চরিত্রে রূপ দান করেছিলেন ভারতীয় টেলিভিশন অভিনেতা বিনয় রানা। তবে তার স্টেজ নেম ভিন রানা নামেই তিনি ভক্ত ও পেশাদার জগতে বেশী পরিচিত। বিনয় রানা জন্মগ্রহণ করেন ১৯৮৬ সালে নয়াদিল্লীতে। ২০১৩ সালের মহাভারত সিরিয়ালটিই ছিল তার টেলিভিশন ধারাবাহিকে প্রথম আবির্ভাব। এরপর এই ধারাবাহিকের তুমুল জনপ্রিয়তার জেরে আর  পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি এই খ্যাতিমান অভিনেতাকে।

৯. দ্রৌপদী

মহাভারতের নারী চরিত্রদের মধ্যে নিঃসন্দেহে দ্রৌপদীকে কেন্দ্রীয় বা প্রধান চরিত্রের তকমা দেওয়া যেতেই পারে। আর তাই এরকম চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয় করার জন্য প্রয়োজন ছিল একজন প্রভাবশালী অভিনেত্রীর। এবং সেই শক্তিশালী অভিনেত্রী হচ্ছেন এই পূজা শর্মা। পূজা শর্মা জন্ম গ্রহণ করেছিলেন ১৮৯ সালে ভারতের নয়াদিল্লীতে। ২০০৬ সালের মিস ইন্ডিয়া কন্টেস্টে তিনি ছিলেন ১০ জন ফাইনালিস্টের একজন। তবে ২০১২ সালে তিনি অভিনেত্রী হিসেবে তার যাত্রা শুরু করলেও ২০১৩ সালের মহাভারত ধারাবাহিকের মাধ্যমে তিনি অর্জন করেন অতুল্য খ্যাতি। এরপর একে একে মহাকালী, রাধাকৃষ্ণ, কর্মফলদাতা শনি, এবং রাম সিয়া কে লব কুশ সিরিয়ালের মাধ্যমে তিনি মানুষের মনে স্থায়ীভাবে জায়গা করে নেন।

১০. সহদেব

পঞ্চপাণ্ডবের সর্বশেষ পাণ্ডব সহদেবের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন লাবণ্য ভরদ্বাজ। তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৯৮২ সালে উত্তর প্রদেশের মীরাটে। টেলিভিশনের জনপ্রিইয় এই অভিনেতা মহাভারতে সহদেবের চরিত্রে অভিনয় করার পাশাপাশি আরও একটি পৌরাণিক সিরিয়াল দেবকে দেব মহাদেব সিরিয়ালে অভিনয় করেছিলেন নহুষের ভূমিকায়। বর্তমানে তিনি একজন পেশাদার টেলিভিশন হিসেবেই কর্মত আছেন।

১১. ধৃতরাষ্ট্র

জন্মান্ধ ধৃতরাষ্ট্রের লোভ, হিংসা, পাপ প্রভাবিত করেছিল মহাভারতের অনেক চরিত্র ও কাহিনীকে। এই চরিত্রের জন্য ডাক পড়ে ২৩ বছর বয়সী ঠাকুর অনুপ সিং এর।  ১৯৮৯ সালে পুনেতে জন্মগ্রহণ করা ঠাকুর অনুপ সিং একজন পেশাদার বডিবিল্ডার এবং অভিনেতা। ২০১৫ সালে তিনি অন্তত তিনটি বডিবিল্ডিং প্রতিযোগীতায় সোনা, রূপা ও ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন। তবে টেলিভিশন অভিনেতা হিসেবে ২০১১ সালে দ্বারকাধীশ ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সিরিয়ালে দুঃশাসনের চরিত্র দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করলেও সবচেয়ে বড় খ্যাতি তিনি পেয়েছিলেন মহাভারত সিরিয়ালে ধৃতরাষ্ট্র চরিত্রে রূপদান করার মাধ্যমে। এছাড়াও তামিল, তেলেগু, কন্নড়, ও হিন্দি ভাষায় নির্মিত বেশ কিছু চলচিত্রে খল চরিত্রে অভিনয় করে খ্যাতি অর্জন করেছেন তিনি।

১২. গান্ধারী

মহাভারতে ধৃতরাষ্টের নামের পাশাপাশি যে অভাগিনী নারীর নাম উচ্চারিত হয় তার নাম গান্ধারী। রাজকুমারী হওয়ার সত্ত্বেও এক জন্মান্ধের সাথে বিবাহ, সারাজীবন নিজের দৃষ্টিকে আটকে রাখা এবং শতপুত্রের মৃত্যুশোক প্রাপ্ত হওয়া এই নারী চরিত্রটি নিঃসন্দেহে মহাভারতের একটি অন্যতম শক্তিশালী চরিত্র। স্বস্তিক প্রোডাকশান নির্মিত ২০১৩ সালের মহভারত সিরিয়ালে এই গান্ধারীর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন মাত্র ১৭ বছর বয়সী রিয়া দিপসী নামক অভিনেত্রী। ১৯৯৫ সালে জন্ম নেওয়া এই অভিনেত্রী ২০১২ সালে নানবান নামক একটি তামিল সিনেমায় ক্যামিও চরিত্রে অভিনয় করলেও ২০১৩ সালে গান্ধারীর ভূমিকায় অভিনয় করে তিনি বিনোদন জগতে তার স্থানটিকে পাকাপাকিভাবে তৈরি করে নেন। বর্তমানে তিনি টেলিভিশন অভিনয় পেশার সাথেই যুক্ত রয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  কালিদাস পণ্ডিতঃ দেবীর বরে গণ্ডমূর্খ থেকে মহাকবি

১৩. কর্ণ

মহাভারতের অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্র কুন্তীপুত্র, সুতপুত্র, সূর্যপুত্র এবং অঙ্গরাজ কর্ণ। জাতিপ্রথার নামক সামাজিত ব্যাধির কবলে পড়ে নানা চড়াই উতরাই পার হয়ে এক করুণ পরিনতির শিকার হয়েছিলেন তিনি। মহাভারত সিরিয়ালে এই শক্তিশালী চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অহম শর্মা নামক এই যুবক। অহম শর্মা জন্মেছিলেন ১৯৮৯ সালে বিহারে। ২০০৮ সালে চলচিত্র ও টেলিভিশন ধারাবাহিকে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি শুরু করেছিলেন তার অভিনয় জীবনের যাত্রা। যা ২০১৩ সালে এসে তাকে এনে দিয়েছিল ভারতবর্ষ জোড়া খ্যাতি। মহাভারতে কর্ণ চরিত্রে তার অসামান্য অভিনয়ের জন্য ২০১৪ সালে তিনি ইন্ডিয়ান টেলি এওয়ার্ডস পুরষ্কারে ভূষিত হন।

১৪. ধৃষ্টদ্যুম্ন

গুরু দ্রোনাচার্যের কাল হয়ে রাজা দ্রুপদের যজ্ঞাগ্নি থেকে দ্রৌপদীর সাথে উত্থিত হয়েছিলেন ধৃষ্টদ্যুম্ন। পাণ্ডবপক্ষের এক মহারথী যোদ্ধা হিসেবে এই ধৃষ্টদ্যুম্ন এক বিরাট ভূমিকা পালন করেছিলেন। মহাভারতে এই চরিত্রটিতে রূপদান করেছিলেন কারান সুচক। কারান সুচক জন্মেছিলেন ১৯৮৬ সালে গুজরাটের এহমেদাবাদে। পেশায় টেলিভিশন অভিনেতা হিসেবে যাত্রা শুরু করা কারান সুচক মহাভারত সিরিয়ালের মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন। এবং এর পর পরই ২০১৫ সালে নির্মিত সিয়া কে রাম সিরিয়ালে লক্ষণের চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় করেছিলেন তিনি।

১৫. উত্তরা

অর্জুনের পুত্রবধু ও অভিমন্যুর পত্নী উত্তরার চরিত্র মহাভারতে খুব বেশী চোখে না পড়লেও তাঁর গর্ভজাত পরিক্ষিৎই কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে বংশ রক্ষা করেছিলেন পাণ্ডবকুলের। মহাভারত সিরিয়ালে এই চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন মাত্র তের বছর বয়সী রিচা মুখার্জী। ১৯৯৯ সালে জন্ম নেওয়া এই বাঙালী অভিনেত্রী ছোটবেলা থেকেই যুক্ত রয়েছেন বিভিন্ন টেলিভিশন ধারাবাহিকে অভিনয়ের সঙ্গে। এবং বর্তমানেও তিনি একই পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন।

১৬. অভিমন্যু

অভিমন্যু মহাভারতের এক অসামান্য বীর। যার বীরত্ব ও সাহসিকতা ছাড়িয়ে গেছে তাঁর পিতা অর্জুনকের পরাক্রমকেও। আবার রণভূমিতে তাঁর করুণ মৃত্যু যুগ যুগ ধরে কাঁদিয়েছে মানুষকে। মহাভারত ধারাবাহিকে এই চরিত্রে অভিনয় করার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল ১৯ বছরের যুবক পরস আরোরাকে। পরস আরোরা জন্মেছিলেন ১৯৯৪ সালে। এবং খুব অল্প বয়স থেকেই তিনি অভিনয় করেছেন একাধিক সিনেমা, মিউজিক ভিডিও ও টিভি সিরিয়ালে। মহাভারতের অভিমন্যু চরিত্রটিতে তাঁর অসামান্য অভিনয় চোখে জল এনে দিয়েছিল দর্শকদের। তবে মহাভারত ছাড়াও বীর শিবাজি সিরিজে শিবাজির চরিত্রে অভিনয় করেও তিনি লাভ করেছেন আকুন্ঠ জনপ্রিয়তা।

১৭. যুধিষ্ঠির

ধর্মরাজের আশির্বাদে দেবী কুন্তী যে ধার্মিক এবং জেষ্ঠ্য পুত্রটি লাভ করেছিলেন তিনি যুধিষ্ঠির। তাঁর অসামান্য জীবন দর্শন, ভ্রাতাদের প্রতি পিতৃসম দায়ীত্ববোধ, গুরুজনদের প্রতি আকুন্ঠ শ্রদ্ধা এবং অপরিসীম ধর্মীয় জ্ঞান এই চরিত্রটিকে রূপ দিয়েছে মহাভারতের অন্যতম প্রধান ও কেন্দ্রীয় চরিত্রে। মহাভারত নামক ধারাবাহিকে এই গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র রূপায়ন করেছিলেন রোহিত ভরদ্বাজ। তাঁর জন্ম ১৯৮৩ সালে পাঞ্জাবে। পেশাগত জীবনে তিনি একজন টেলিভিশন ধারাবাহিকের অভিনেতা এবং এর পাশাপাশি বিভিন্ন ওয়েব সিরিজেও বেশ কিছু কাজ করেছেন তিনি। ৪০ বছর বয়সী এই অভিনেতা বর্তমানে অভিনয় পেশাতেই নিয়োজিত রয়েছেন।

১৮. মাদ্রী

মহারাজ পাণ্ডুর পুত্র মাদ্রী মহাভারতের একটি দিক পরিবর্তনকারী চরিত্র। অশ্বিনীকুমারদের প্রসাদে নকুল ও সহদেবকে জন্মদান, পাণ্ডুর মৃত্যু এসবকিছুর সাথে জড়িয়ে আছে মদ্রদেশের রাজকুমারী মাদ্রীর নাম। মহাভারতে এই ছোট্ট চরিত্রে রূপদান করে সকলের নজর কেড়েছিলেন সুহানী ধানকা। ১৯৮৯ সালে জন্মগ্রহণ করা এই অভিনেত্রী তাঁর অভিনয় জীবনের সূচনা করেছিলেন এই মহাভারত সিরিয়ালের মাধ্যমেই। পরবর্তীতে অভিনয়শিল্পকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি। তাঁর অভিনয় দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৮ সালে বেস্ট টেলিভিশন একট্রেস হিসেবে লাভ করেন 9th Newsmakers Achievers’ Award।

১৯. দ্রোণাচার্য

মহাভারতের পটপরিবর্তনের অন্যতম নায়ক গুরু দ্রোণাচার্য। প্রথম অবস্থায় তাঁর শত্রু দ্রুপদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি হস্তিনাপুরে আগমন করলেও পরবর্তীতে জড়িয়ে যান কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে। এই অসামান্য চরিত্রটিকে রূপদান করার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল টিভি সিরিয়ালের এক অতি পরিচিত মুখ নিসার খানকে। নিজে জাতিগতভাবে মুসলিম ধর্মের অনুসারী হয়েও একটি পৌরাণিক চরিত্রকে তিনি যেভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন তা এক কথায় অনবদ্য। নিসার খান জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৯৬৯ সালে পাঞ্জাবে। এবং বর্তমানে তিনি সিনেমা এবং টেলিভিশন ধারাবাহিক গুলোতে কৃতিত্ত্বের সাথে অভিনয় করে যাচ্ছেন।

আরও পড়ুনঃ  মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্রের পিছনের পৌরাণিক কাহিনী || যম থেকে মার্কণ্ডেয়কে বাঁচালেন মহাদেব ||

২০. রাজা দ্রুপদ

গুরু দ্রোনের নামের সাথে উচ্চারিত হয় মিত্র থেকে শত্রুতে পরিণত হওয়া রাজা দ্রুপদের নাম। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে অসামান্য অবদান, দ্রৌপদী ও ধৃষ্টদ্যুম্নের জন্মদান প্রভৃতি কারনে এটিও মহাভারতের একটি কেন্দ্রীয় চরিত্র। আর এই চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন আরও একজন শক্তিমান টেলিভিশন অভিনেতা সুদেশ বেরি। তবে মহাভারতের অভিনয়ে তিনি এবারই প্রথম নন, ১৯৮৮ সালে নির্মিত মহাভারত সিরিয়ালেও তিনি অভিনয় করেছিলেন বিচিত্রবীর্যের ভূমিকায়। দীর্ঘকাল ধরে সিনেমা ও টিভি অভিনয়ের সাথে জড়িত এই অভিনেতা দারুনভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন রাজা দ্রুপদের চরিত্রটি।

২১. শিখণ্ডী বা শিখণ্ডিনী

দেবব্রত ভীষ্মের মৃত্যুর কারন হয়ে চেয়ে যে মেয়েটি পুনর্জন্ম নিয়ে ফিরে এসেছিল মর্তে তিনিই শিখণ্ডী। এই শক্তিশালী চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন ছোট পর্দার আরেক পরিচিত মুখ শিক্ষা সিং। তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৯৮৬ সালে চণ্ডীগড়ে। যদিও তিনি পেশাদার টিভি অভিনেত্রী হিসেবে আগেই তাঁর কর্মজীবন শুরু করেছিলেন, তবে মহাভারতের এরক্ম একটি শক্তিশালী চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বিনোদন জগতের তাঁর স্থান বেশ ভালোভাবেই পাকাপোক্ত হয়। বর্তমানে এই অভিনেত্রী এক সন্তানের জননী এবং পেশাগতভাবে অভিনয় শিল্পের সাথে জড়িয়ে আছেন।

২২. শকুনী

যার কূট চক্রান্তে কুরু-পাণ্ডবদের মধ্যে আজীবন দন্দ্ব, যার অপকৌশলে দ্রৌপদীর এত বড় অপমান হয়েছিল, যার কপটতার কারনে কুরুক্ষেত্রে রক্তগঙ্গা বয়ে গিয়েছিল তিনি কৌরবদের মামা তথা গান্ধারীর ভ্রাতা শকুনি। আর এই চরিত্রে যে চৌকশ অভিনেতাকে নিয়োজিত করা হয়েছিল তিনি প্রণীত ভাট। কি অসাধারণ ছিল তাঁর অভিনয়। এক পায়ে খুড়িয়ে এবং এক চোখ বন্ধ রেখে শকুন কূটকৌশল ও কপটতাকে তিনি যেভাবে দর্শকদের সামনে তুলে ধরেছিলেন তা শুধুমাত্র তাঁর দ্বারাই সম্ভব। ১৯৮০ সালে জন্মগ্রহণ করা এই কাশ্মিরী ব্রাহ্মণ অভিনেতা অনেক আগে থেকেই যুক্ত ছিলেন অভিনয় পেশার সাথে। তবে তাঁর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল এই পৌরাণিক চরিত্রটি। মহভারত ছাড়াও তিনি অভিনয় করেছেন আরও বেশ কিছু পৌরাণিক কাহিনীতে। তবে শকুনি চরিত্রটি তাঁর জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন এটি আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

২৩. অশ্বথামা

অভিমন্যু পত্নী উত্তরার গর্ভে ব্রহ্মাস্ত্র হেনে পাণ্ডবদের নির্বংশ করার মত জঘন্য কাজটি করেছিলেন দ্রোনপুত্র অশ্বথামা। পরিনামে জুটেছিল শ্রীকৃষ্ণের কাছ থেকে অমরত্বের অভিশাপ। মহাভারতের এই খল চরিত্রে রূপদান করেছিলেন অঙ্কিত মোহান নামের এই অভিনেতা। ১৯৮৮ সালে দিল্লীতে জন্মগ্রহণ করা এই অভিনেতা সমান তালে অভিনয় করেন সিনেমা, ওয়েব সিরিজ ও সিরিয়ালে। মহাভারতের অশ্বথামা চরিত্রটিতে দুর্যোধনের মিত্রশক্তি হিসেবে তিনি যেভাবে এই খল চরিত্রটি দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করেছিলেন তা হৃদয় ছুয়ে গেছে দর্শকদের। এই চরিত্রটি যে তাঁর জীবনের একটি অন্যতম বড় কীর্তি তা নিজের মুখে স্বীকারও করেছিলেন এই খ্যাতিমান অভিনেতা।

২৪. ব্রুশালী

কর্ণের পত্নী ব্রুশালীর ভূমিকা অতি নগণ্য হলেও মহাভারতের স্ক্রীনে নজর কেড়েছিলেন এই চরিত্রের অভিনেত্রী নাজিয়া হাসান সাইদ। এর আগে তাকে দেখা গিয়েছিল সিআইডি সিরিয়ালের অনেকগুলো পর্বে। তবে জাতিতে মুসলিম হলেও সনাতন ধর্মীয় এই পৌরাণিক চরিত্রে তাঁর অসামান্য অভিনয় এবং রমনীয় মুখশ্রী মুগ্ধ করেছিল দর্শকদেরকে। বর্তমানেও তিনি পেশাদার অভিনয় শিল্পী হিসেবে কর্মরত।

২৫. শ্রীকৃষ্ণ

আজকের ভিডিয়োর সর্বশেষে যার কথা বলতে চলেছি তিনি স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। নিজের হাতে অস্ত্র ধারন না করেও কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের পরিণতি দান করেছিলেন তিনি। সমগ্র মহাভারত জুড়ে তিনি আমাদেরকে শিখিয়েছেন ধর্ম-অধর্ম, রাজনীতি-রণনীতি, দুষ্টের দমন-শিষ্টের পালন এবং আমাদেরকে দান করেছেন তাঁর পক্ষ থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ উপহার শ্রীমদ ভগবদ গীতা। মহাভারতের এই প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন সৌরভ রাজ জৈন। তাঁর দুষ্টুমি মাখা হাসি, মায়াবী মুখশ্রী, অসামান্য অভিনয় এবং মনোমুগ্ধকর চাহনির মাধ্যমে তিনি যেন বনে গয়েছিলেন একেবারে সেই ব্রজের দুলাল। তাঁর নাম শুনেই বুঝতে পারছেন তিনি জৈন ধর্মে জন্ম নিয়েছেন তবে ব্যাক্তিগতভাবে তিনি বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী। ১৯৮৫ সালে জন্ম নেওয়া এই অভিনেতা তাঁর অভিনয় জীবনের যাত্রা শুরু করেন ২০০৪ সালে। মহাভারত সিরিয়ালে অভিনয় করার আগে তিনি বেশ কিছু সিনেমা এবং টিভি সিরিয়ালে অভিনয় করলেও তাঁর জীবনের মূল সফলতা এসে ধরা দেয় শ্রীকৃষ্ণ চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে। পরবর্তীকালে তিনি সাধারন টিভি ধারাবাহিকে অভিনয়ের পাশাপাশি মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন আরও কিছু পৌরাণিক কাহিনী নির্ভর ধারাবাহিকে।

5/5 - (1 vote)

Leave a Reply